৪:১২ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে জনগণই এর জবাব দেবে : জকিগঞ্জে মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে জনগণই তার জবাব দেবে। গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সরকার বিদেশি রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে। দেশকে দলীয়করণ করা হয়েছে, সর্বত্র সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে। তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সিন্ডিকেট করে দেশের কোটি কোটি মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জকিগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত গার্মেন্টস শিল্প।
এ খাতের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। কিন্তু গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল একটি দলের পরিবর্তে অন্য একটি দলের ক্ষমতায় আসা ছিল না। আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
সেই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, ৩৩টি রাজনৈতিক দল নয় মাসে ৮৩টি অধিবেশনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং উভয় ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, দেড় হাজারের মতো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শায়খ মোস্তফা আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আফসার জিহাদির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল কারীম জালালী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতা উল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মহসিনুল হাসান, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।