৮:৫২ অপরাহ্ণ
পাউবো কর্তৃক ধলাই নদীর চর অপসারণের কারনে কমলগঞ্জে বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ:: প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণে, ধলাই নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙ্গনের সম্মুখীন হত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মানুষ ও কুষক। চর অপসারণের কাজ করায়, বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি কমেছে অনেকাংশই। দূর্দশা থেকে বানবাসী মানুষ মুক্তি পেয়েছে।
জানা যায়, ধলাই নদীতে আঁকাবাঁকা ও ইউ আকৃতির চর থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতো। অল্প বর্ষণেই উজানের পাহাড়ি ঢলের স্রোতের কারনে বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দিত। নদীর ভাঙনে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছিলো। কমলগঞ্জবাসী ধলাই নদী খনন ও সংস্কারের দাবী জানিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বিগত বছর গুলোতে বর্ষা মৌসুমে ধলাই নদীর একাধিক স্থানে ভাঙন দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে কৃষকের ফসলি জমিসহ মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ করতো। প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গনের প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয় গভীরতা কম ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধের বিপরীত পাশে নদী গর্ভের বালু চরগুলোকে।
ভাঙ্গন রোধে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সমুহে জরুরী কাজ করানো হয়। গত ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনসহ চলমান জরুরী কাজেরও ব্যাপক ক্ষতি করে, যা পুনরায় কাজ করে দেন ঠিকাদারগণ। এক কাজ দুবার করায়, আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনও হয়েছিলেন ঠিকাদাররা।
নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে, চর অপসারণ কাজের উদ্যোগ নেয় মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বন্যা সমস্যা থেকে উত্তরণে ও নদীর নৈব্যতা ফিরিয়ে আনতে দেশের ৬৪টি জেলার খাল, জলাশয়, ও নদী পুনর্খনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) এর আওতার অংশ হিসাবে কমলগঞ্জেও সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩টি প্যাকেজে চলতি বছরে ধলাই নদীর ২২টি স্থানে বড় চর অপসারণের কাজ করানো হয়। আর এই চর অপসারণের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোথাও নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়নি।
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানুর জানান, নদী ভাঙ্গনের ভোগান্তিতে থাকা হিরামতি মনিপুরি ও পাটনিকোণা এবং শিমুলতলার মানুষসহ মাধবপুর ইউনিয়নের ১৫/২০ টি গ্রামের মানুষ রক্ষা পেয়েছে। তবে হিরামতির বাঁধটি ইউ আকৃতি হওয়ায় ঢলের পানি বাঁধে আঘাত করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ব্লক দেয়াটা অত্যন্ত জরুরী।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড চর অপসারণ করায় কমলগঞ্জ পৌর এলাকা বন্যার কবল থেকে এলাকা রক্ষা পেয়েছে। তবে আলেপুর এলাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এখানে স্থায়ী সমাধান করতে চিঠি দেয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশেকুল হক জানান, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কিছু জায়গায় চর অপসারণ করা হয়েছে। কমলগঞ্জে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্লকের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রমেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ধলাই নদী খনন ও সংস্কারের জন্য। ঝুঁকিপূর্ণ ২২ টি স্থানে চর অপসারণের কাজসহ আপদকালীন সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত, অধিক ঝুঁকিপূর্ণস্থানে জিওব্যাগ ফেলানোসহ জরুরী কাজ চলমান । কাজ শেষ হলে ভোগান্তির লাঘব হবে।