৩:০ ৭ অপরাহ্ণ
কমলগঞ্জে সড়ক সংস্কার:
মাস না যেতেই উঠে গেছে সোয়া ২ কোটি টাকার কার্পেটিং! সংস্কার কাজে অনি'য়মের অভি'যোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শমশেরনগর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন রেলগেট পতনঊষার ভায়া তারাপাশা সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১ মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা,যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের মান বজায় না রাখার কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যদিও উপজেলা এলজিআরডির পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কমলগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শমশেরনগর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন রেলগেট মাথা হতে পতনঊষার ভায়া তারাপাশা বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার কার্পেটিং সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কাজটি সম্পন্ন করে সাইফুল এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকাদার সোহেল আহমেদ।
বুধবার (১২ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শমশেরনগর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন রেলগেট মাথা হতে পতনঊষার ভায়া তারাপাশা বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্পেটিংয়ের স্তর এতটাই দুর্বল যে হাত দিয়ে টান দিলেই তা সহজেই উঠে আসছে। চলমান ভারী বর্ষণের কারণে গর্তগুলোতে পানি জমে প্রতিদিন যান চলাচলের সময় আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটি। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ভোগ।
প্রতিদিন এই সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চালান এমন কয়েকজন চালক জহির মিয়া, সোয়েব আহমেদ, সেলিম মিয়া, রায়হান আহমেদ বলেন, যে কাজ করা হয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আগে সড়কটি তুলনামূলক ভালো ছিল। এখন বর্ষায় চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যায় না। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আহমেদ, আব্দুল হাই ইদ্রিসী, মাইদুল ইসলাম, তানভির আহমেদ এবং পথচারী মো. সোলেমান মিয়া ও বাজার ব্যাবসায়ী সাজিদুর রহমান সাচ্চুসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু তখন তাদের অভিযোগ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারা আরো জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত মার্চ মাসে কাজ শুরু করে এবং জুলাই মাসে কাজ সম্পন্ন করে বলে দাবি করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ছাপ ছিল। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা যথাযথ নজরদারি করেননি। তাদের ভাষ্য, সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে।
অথচ কাজের মান ঠিক না থাকলে জনগণের কষ্ট বাড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফুল এন্টারপ্রাইজ এর ঠিকাদার সোহেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কল রিসিভ করে প্রথমে তিনি রিবেল এন্টারপ্রাইজ বলে অস্বীকার করেন পরবর্তীতে একাধিক কল দিলেও তিনি আর কল রিসিভ করেন নি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে এর আগে তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ওই কাজের দায়িত্বে ছিলেন তারা এখন অফিসে নেই। তারা এলে বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানানো হবে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে জনগণের ভোগান্তি কমে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। পতনঊষারের পার্শ্ববর্তী কামারচাক ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান জানান, কাজে অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
এব্যপারে পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, রাস্তার কাজের বিষয় নিয়ে আমি উপজেলা মাসিক সভায় কথা বলেছি। একইসাথে অনুরোধ করেছি, রাস্তার কার্পেটিং এর কাজে পূর্ণ মেরামত না করে দেওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করার জন্য।
কমলগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়, কাজটা যেহেতু ম্যানুয়ালি তাই বিটুমিন যদি ওভারহিট হয়ে যায় তাহলে আটা গলে গিয়ে বৃষ্টির পানি রাস্তার উপর জমে থাকার কারণে সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। তিনি আরও বলেন, কাজ শেষ হয়ে গেছে এর মানে এই নয় যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পার পেয়ে গেছেন। এক বছরের সিকিউরিটি পিরিয়ড থাকে যে জায়গাগুলি নষ্ট হয়েছে সেগুলি পূর্ণ মেরামতের জন্য আমরা তাদের বলে দিয়েছি।