১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছেন আবেদীন বাচ্চুর
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র মো: জয়নাল আবেদীন বাচ্চু।
(২৮ জুলাই) রাতে পাকশী পার্টি ঞরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এই ঘোষণা দেন। লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাচ্চু জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি কুলাউড়া পৌরসভার কমিশনার/কাউন্সিলর হিসেবে পরপর পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া তিনি তিনবার প্যানেল মেয়র এবং একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। দীর্ঘ এই জনপ্রতিনিধিত্বের কারণে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকার মানুষের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত আছেন।
বিগত ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌর পরিষদ বিলুপ্ত হলে তিনি স্থানীয় নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেয়র পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন।
এই উদ্দেশ্যে তিনি ইতোমধ্যে পৌরসভার ৬০টি মসজিদের মধ্যে প্রায় ৪০টি মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং হিন্দু-মুসলিমসহ সর্বস্তরের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অপর এক প্রার্থীর অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলও মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
জয়নাল আবেদীন বাচ্চু একে ‘দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিগত ৫ই আগস্টের পর বদরুজ্জামান সজল প্রথমে কুলাউড়া থানার সামনে বিলবোর্ড টাঙিয়ে পার্লামেন্ট (জাতীয় সংসদ) নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর আবার বাসায় সাংবাদিক ডেকে উপজেলা নির্বাচন করার কথা জানান। সর্বশেষ গতকাল সোমবার তিনি আবার সাংবাদিক ডেকে পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
একজন ব্যক্তি কয়টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন— বদরুজ্জামান সজল শেষ পর্যন্ত কোন নির্বাচন করবেন, তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। সবশেষে জয়নাল আবেদীন বাচ্চু কুলাউড়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে পৌরসভার রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্টের উন্নয়ন এবং যানজটমুক্ত শহর গঠনে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। আসন্ন এই নির্বাচনে তিনি পৌরসভার সাধারণ নাগরিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।