বুধবার, আগস্ট ১২, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
১১ আগস্ট ২০ ২৬
৮:১৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বনাথে বসতভিটা থেকে উচ্ছে'দের চেষ্টা হাম'লার অভি'যো'গ

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার মীরেরচর গ্রামে বাপ-দাদার বসতভিটা থেকে একটি অসহায় পরিবারকে উচ্ছে'দের চেষ্টা, হা'ম'লা, বাড়িঘর ভাঙ'চুর ও প্রা'ণনাশের হু'ম'কির অভি'যোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভা'বশালী বশির আহমদ ও তার ছেলেসহ কয়েকজনের বি'রু'দ্ধে অভি'যোগ করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা মো. আকমল আলী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকমল আলী বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে বসবাসকারী মৃত জবান উল্লাহর ছেলে বশির আহমদ ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। বসতভিটার জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এতে রাজি না হওয়ায় মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বশির আহমদের সাত ছেলের অনেকেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী এবং অর্থবিত্তের মালিক। আমাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া একমাত্র সম্বল বসতবাড়িটি তারা নিজেদের করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের অর্থের মাধ্যমে লোকজন এনে আমাদের পরিবারের সদস্যদের উচ্ছেদের হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আকমল আলী বলেন, তার দাদা মৃত আজর আলী উত্তর মীরেরচরের রহমত উল্লাহর ছেলে ইদ্রিছ আলীর কাছ থেকে ১৯৫৪ সালে ৪৩৭৩ নম্বর দলিলমূলে বসতভিটার জমি ক্রয় করেন। পরে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তার দাবি, বাকি জমিও তাদের মৌরসি সম্পত্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসএ রেকর্ডে চান্দশির কাপন মৌজার জেএল নং-৮৭, খতিয়ান নং-৭২৬/৭২৯ এবং দাগ নং-৮ ও ৯-এ তার দাদা আজর আলীর নামে জমি রেকর্ড হয়। পরবর্তী বিএস রেকর্ডে একই মৌজার ২৮ ও ২৯ নম্বর দাগে তার বাবা কবির উদ্দিন, চাচা মনির উদ্দিন, গেদাব আলী ও ফুফুদের নামে জমি রেকর্ডভুক্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আকমল আলী অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তারা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বশির আহমদের ছেলে ও ভাড়াটিয়া লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় মামলা হয় বলে জানান আকমল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় বশির আহমদ, তার ছেলেরা কামাল, খলিল, জলিল ও রহিম ছাড়াও আব্দুর রূপ, আব্দুল হাকিম, আব্দুল কাইয়ুম, ফজর আলী, রুহেল, জহির ও আমির উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

আকমল আলীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে মামলাটি স্থগিত করে রাখায় বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার এক নম্বর আসামির নাম পুলিশ অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছে। আকমল আলী বলেন, গত ৯ জুলাই তার চাচা গেদাব আলী মারা গেলে তাদের জায়গায় মরদেহ দাফনেও বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর দুই দিন পর ১২ জুলাই রাতে তাদের ঘর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ করেন উত্তর মীরেরচর গ্রামের আব্দুল আহাদ (৫০), নুরুল হোসেন ওরফে উদ্বুর (৫৫) এবং মিজান আহমদ (২৮)-এর বিরুদ্ধে। আকমলের অভিযোগ, ওই রাতে তারা তাদের ঘর ভাঙচুর করেন। বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আকমল আলী বলেন, তারা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের ভয়ে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

যেকোনো সময় তাদের বাড়িঘর দখল এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বাপ-দাদার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা গ্রহণ এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুরুজ আলী, তোহায়িদ আলী, এমরান আহমদ ও রায়হান আলী।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ