২:১০ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
‘নারীর অধিকার, সমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা’—এই প্রত্যয়ে জকিগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মুমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ফখর উদ্দিন, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ এবং এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হামিদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক জুলাই যোদ্ধা রেদোয়ান রাফি ও মরিয়ম জান্নাত। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা মূলত শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা ১২ ঘণ্টার শ্রমের পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের সময় বহু নারী শ্রমিক গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে একই দিনে নারী শ্রমিক ইউনিয়ন গঠিত হয়। এরপর ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আবারও আন্দোলনে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হন। নারী শ্রমিকদের এই দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি উদযাপনের দিন নয়; এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে নারীর সক্ষমতা, অবদান ও অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।