শনিবার, মে ২, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্টার
২ মে ২০ ২৬
৬:১৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা-সিলেট যাতায়াত সহজ করার আশ্বাস দিলেন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও সড়কপথের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা কথা জানিয়েছেন। শনিবার (২ মে) সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটে ডাবল লাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত ও নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট যাতায়াত সহজ করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, আকাশপথে অল্প সময়ে যাওয়া গেলেও সড়কপথে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে ঢাকা-সিলেট যাতায়াত অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। তবে শুধু সড়ক উন্নয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। রেলপথে যাতায়াত তুলনামূলক কম খরচের এবং পণ্য পরিবহনেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হলেও ভূমির পরিমাণ সীমিত। অতিরিক্ত সড়ক নির্মাণের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সড়ক ও রেল—উভয় খাতে সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জোরদার করেই দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা খাতে চাপ কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, পরিকল্পিত এই কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় একটি অংশ নারী হবেন। তারা গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুলবেন। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও স্বাস্থ্যবিধি এসব বিষয়ে মানুষকে সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের অনেক অঞ্চলে এখনো মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

এ বাস্তবতায় শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসক বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং অসুস্থ হওয়ার আগেই মানুষকে সচেতন করা জরুরি। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে বর্তমানে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালটি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা যায়, সরকার সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় এবং এ লক্ষ্যেই এই বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধি সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র এবং শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এমপি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমুখ। এর আগে, সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেটের সুরমা নদীর তীরে কিনব্রিজের পাশে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার নদীর তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। বেলা একটায় তিনি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাসুকবাজার এলাকায় বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিবেন তারেক রহমান। বিকেল তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন করবেন। বিকেল পাঁচটায় তিনি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দিবেন। রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ