২:৩৭ অপরাহ্ণ
সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চয়তার দাবীতে মানববন্ধন
করোনা পরিস্থিতি যখন ভাঙ্গা-গড়ার জীবন নিয়ে জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে প্রান্তিক জনোগোষ্ঠি যখন দিশাহারা, এই পরিস্থিতিতে আজ তৃনমূল নারী উদ্যোক্তাদের জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে, আন্তর্জাতিক হোম-বেসড ওয়ার্কার্স ডে তে, সাউথ এশিয়ান গ্রাসরুটস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সহযোগিতায় তৃনমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটি (গ্রাসরুটস) দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও উদ্যোক্তাদের সামাজিক সুরক্ষার দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তাগণ বলেন, সামান্যতম সহযোগিতার অভাবে প্রায় প্রতিদিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোগ, এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তারা দিশাহারা হয়ে উঠেছে। প্রান্তিক এই উদ্যোক্তারা একসময় ভেবেছিল করোনা কালীন সময়ে অন্তত ২ মাসের বাসা/ফ্যাক্টরি ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল মওকুফ সহ, কিছু সহযোগীতা করোনাকালীন সময়ে পাওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই মেলেনি, বাসা ভাড়া দিতে না পারায় অনেকে শহর ছেড়েছে, অনেকে উদ্যোগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করোনাকালীন সময়ে প্রণোদনা ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হলেও অধিকাংশ তৃনমূল নারী উদ্যোক্তারা এই ঋণ থেকে বঞ্চিত। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মর্টগেজ দেওয়ার বিধান না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই ৫০,০০০ টাকা ঋণের জন্য ও মাটির দলিল চাওয়া হচ্ছে।
আবার ব্যাংকে ঋণ আবেদন করলে এবং গ্রহণযোগ্য না হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা আবেদনকারীকে জানানোর বাধ্য বাধকতা থাকলেও তা কাগজের পাতায় ৬/৭ মাস পার হোয়ে গেলেও উদ্যোক্তা কে আবেদনের কোন জবাব দেওয়ার রীতি বোধহয় নাই। হারাতে বসা ব্যাবসায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সামান্য সহযোগিতা পেলেই তা পুনঃ চালু করতে পারে কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের কার্যক্রম সেভাবে দেখা যায় না। করোনা কালীন প্রণোদনা ঋণ কোটি-কোটি টাকা দেওয়ার তথ্য প্রচার হলেও কত জন কে সে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তা প্রচার করা হয় না, স্বাভাবিক ভাবেই মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে ধরে নেওয়া যায়বক্তারা বলেন সময় এখনই, সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক উদদোক্তাদের প্রণোদনা ঋণ প্রদান করে এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্দোগতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধের পথে যাওয়া উদ্যোগগুলোকে সচল করতে উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সচল রাখা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবী। বক্তারা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিক ব্যাংক চালু করা এবং সরকারী সকল দপ্তর কে এগিয়ে আসার আবেদন জানান।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির জেলা সভাপতি সাকেরা সুলতানা জান্নাত, গার্হস্থ নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা সভাপতি হিনু বর্মন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সিলেট জেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ খোকন, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা জাতীয় সমন্বয়কারী অনিতা দাস গুপ্তা ও এসএজিডিএফ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিমাংশু মিত্র।