৫:০ ৮ অপরাহ্ণ
ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কুলাউড়ার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম
কুলাউড়ায় দীর্ঘদিন থেকে ৪টি কলেজের অধ্যক্ষ, ৩টি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও সুপার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে শিক্ষার কার্যক্রম। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৈনদিন কাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে। কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন কুলাউড়া থেকে বদলি হওয়ার প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোন কর্মকর্তা সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম গত আড়াই বছর থেকে এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এদিকে কুলাউড়ার একমাত্র সরকারি ডিগ্রি কলেজসহ ৪টি কলেজে দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রশাসনিক কাজসহ চলছে কলেজের শিক্ষার কার্যক্রম। এছাড়াও উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ওই সকল স্কুলের সকল কার্যক্রম।
কুলাউড়ায় ৪টি কলেজের মধ্যে- কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে গত ৯মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের অধ্যাপক একে এম শাহজালাল। পৌর শহরের ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে গত আড়াই বছর থেকে চলছে সকল কার্যক্রম। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কলেজের অধ্যাপক সুজাতা সরকার।
উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রায় একযুগ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আতাউর রহমান চন্দন দায়িত্ব পালন করলেও তিনিও গত ৯ এপ্রিল অবসরে গেলে নতুন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের অধ্যাপক নজমুল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। ভাটেরা ডিগ্রি কলেজে গত আড়াই বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সলিম উদ্দিন।
উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে- বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। তার মধ্যে- বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজে ফেরদৌসী সুলতানা, ভূকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজে নুরুল ইসলাম, উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আনিসুর রহমান, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুস সবুর, আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে শশাঙ্ক শেখর গৌস্বামী, শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শতদল দে, শাহ সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে তাজুল ইসলাম, রাউৎগাঁও স্কুল এন্ড কলেজে মো. জাকারিয়া, হাজীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুমন্ত গোপাল দত্ত, তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইফুল ইসলাম, নবীগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বানু রাম বিশ্বাস, লংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুল খালিক, এসব শিক্ষকগণ ওই সকল স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এছাড়াও উপজেলার ৩টি মাদ্রাসার মধ্যে- হিংগাজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পিন্সিপাল হিসেবে মুফতি গোলাম সরওয়ার, মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় মাওলানা মো. ওবাইদুল্লাহ ও বরমচাল হযরত খন্দকার (র.) দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে মাও. লুৎফুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলার মধ্যে কলেজ, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ না থাকায় প্রশাসনিক কাজসহ বিভিন্ন দপ্তরে নানা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
অধিকাংশ অভিভাবক ও স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো ভারপ্রাপ্তের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছে। সরকারের প্রতি তারা দাবি জানান, অতি দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ দিয়ে ভারমুক্ত করে শিক্ষার মানকে এগিয়ে নেওয়ার।
এব্যাপারে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে সেখানে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ দেওয়ার বর্তমানে আর সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার যদি লোকবল দেয় তাহলে এনটিআরসির মাধ্যমে সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূণ্য পদে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ দেওয়া যাবে। যে সব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদ শূণ্য রয়েছে সেগুলোর চাহিদা চেয়ে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।