শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০ ২৬
ডেস্ক রিপোর্ট ::
৪ ডিসেম্বর ২০ ২৫
৬:৫৯ অপরাহ্ণ

সমকামিতা নিয়ে পারিবারিক ও নৈতিক মতবিরোধ: প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করলেন বাবা
সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাজীপুর এলাকার এক ব্যক্তি সমকামিতা নিয়ে পারিবারিক ও নৈতিক মতবিরোধের জেরে তার প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নোটারাইজড হলফনামা দাখিল করেছেন, যা স্থানীয় এলাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। হলফনামায় পিতা মো. মোশাহিদ আলী উল্লেখ করেন, জন্মের পর থেকে তিনি তার কন্যা রাজমিনা আক্তারকে লালন-পালন ও শিক্ষাদানে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তবে কলেজে অধ্যয়নকালে কন্যা এক হিন্দু মেয়ের সাথে সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন এবং তার কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও আচরণ পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, রাজমিনা আক্তার তার এক হিন্দু বান্ধবীর সঙ্গে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা পরিবার মেনে নিতে পারেনি। পিতার অভিযোগ, বিষয়টি থেকে সরে আসার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কন্যা তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এতে পরিবার সামাজিক চাপ, সমালোচনা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হলফনামায় আরও বলা হয়, কন্যার এই আচরণের কারণে পরিবার সামাজিকভাবে অসম্মান ও মানহানির শিকার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এ অবস্থায় তিনি কন্যার সঙ্গে সব ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে তার কোনো আইনগত বা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার বহন করবেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে মো. মোশাহিদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে কন্যাকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে তিনি পুনরায় সমকামী সম্পর্কে যুক্ত হন বলে তার ধারণা। বিষয়টি তার পরিবার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজমিনা আক্তার যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত পরিচয়, সমকামিতা ও স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকার হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ