৪:৪০ অপরাহ্ণ
কানাইঘাটে নকলা খাল খননের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খনন বন্ধের দাবি
সিলেটের কানাইঘাট সদর ইউনিয়নে এলাকাবাসীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন চাষের জমি ও বসতবাড়িকে খাল হিসেবে খনন না করে সরকারি নথিতে চিহ্নিত ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভুল স্থানে খাল খননকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রোববার (১০ মে) কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান। এতে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিজচাউরা উত্তর গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দীন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করায় তারা বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানান।
অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ কর্মসূচিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাদের এলাকায় অবস্থিত ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের নামে স্থানীয় প্রশাসন সরকারি নথিতে নির্ধারিত স্থানে কাজ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়িতে খনন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের খাল খনন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হলেও এলাকাবাসীকে অবহিত না করেই ‘আমরী সুইস গেইট হতে কৃষ্ণপুরী গ্রাম পর্যন্ত’ অংশে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকারি নথিতে নির্ধারিত স্থানে খনন না করে ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদি জমি ও বসতবাড়ির ওপর দিয়ে খনন কাজ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া, আমরী সুইস গেইট থেকে কৃষ্ণপুরী গ্রাম পর্যন্ত এলাকায় অতীতে কিংবা বর্তমানে ‘নকলা খাল’ নামে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অবৈধ খনন বন্ধের দাবিতে গত ৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ৭ মে ওই বিতর্কিত স্থানেই খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ অবস্থায় নিজেদের পৈতৃক ভিটা ও চাষের জমি রক্ষা করতে গিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, যেকোনো সময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ নিয়ে তারা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। তারা জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে খনন কাজ বন্ধ এবং সরকারি নথিতে নির্ধারিত প্রকৃত ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ভিটেমাটি রক্ষায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন নিজচাউরা উত্তর গ্রামের মামুন রশীদ, আব্দুল মছব্বির, জয়নাল আবদীন, নূর হোসাইন এবং নিজচাউরা দক্ষিণ গ্রামের খলিলুর রহমান।