৬:১৪ অপরাহ্ণ
নগরীতে চাঁ’দা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়ির রাস্তা ব’ন্ধের চেষ্টা
সিলেট নগরীর পীরমহল্লায় প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের সরকারি রাস্তা দ’খল, চাঁ’দা দাবি, আদালতের আদেশ অ’মান্য, মি’থ্যা অভি’যোগ দিয়ে হয়’রানি এবং হা’মলা-হু’মকির অভি’যোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন বখতের বি’রুদ্ধে। নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভি’যোগ করেছেন প্রবাসী পরিবারের সদস্য ফাতেমা জান্নাত বাবলী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা জান্নাত বাবলী বলেন, তাঁর দুই ভাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া এবং কানাডাপ্রবাসী সাংবাদিক ফারুক ইবনে আম্বিয়া আলমগীর প্রবাসে উপার্জিত অর্থে নগরীর পশ্চিম পীরমহল্লায় তিনতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ি নির্মাণের পর থেকেই প্রতিবেশী হুমায়ুন বখত, তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও মেয়ে নাজিফা বিভিন্নভাবে নি’র্যাতন ও হয়’রানি চালিয়ে আসছেন বলে অভি’যোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, প্রথমে ১০ লাখ এবং পরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় বাড়ির প্রবেশপথে ভাঙা ইট, গৃহস্থালি আবর্জনা ও শিশুর মলমূত্র ফেলে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করা হয়। সম্প্রতি ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করে প্রবেশপথ বন্ধেরও চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে দেয়াল টপকে বাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ পথটি সিলেট সিটি করপোরেশনের গেজেটভুক্ত সরকারি রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ, বাড়ি নির্মাণের মালামাল পরিবহন এবং সিটি করপোরেশনের বর্জ্য সংগ্রহও এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে। কিন্তু হুমায়ুন বখত সরকারি রাস্তাটি নিজের দাবি করে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ভ্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা জান্নাত বাবলী বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁর বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর পর মরদেহ দেখতে আসা আত্মীয়-স্বজনদেরও ওই রাস্তা দিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার ওপর ইট ও আবর্জনা ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় এবং প্রবেশপথে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে হুমায়ুন বখত, তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও মেয়ে নাজিফা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান, আদালত থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থার আদেশ নেওয়ার পরও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে রাস্তা বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশি হয়রানিরও অভিযোগ তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১ জুলাই বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখাকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন বখত, তার স্ত্রী, মেয়ে ও স্বজনরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা, গালিগালাজ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকি দেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে এবং ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া তদন্তে পুলিশ গেলে হুমায়ুন বখত নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানা ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ফাতেমা জান্নাত বাবলী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি রাস্তা অবমুক্ত রাখা, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।