১০ :০ ৮ অপরাহ্ণ
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)
"কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান
জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ ইং এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন, দেশের সকল হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠন লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রালয়ের কারিগরি শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-০২) জনাব মো: রাহাত খান ৭ জুলাই, ২০২৬ইং তারিখে স্বাক্ষরিত এক পত্রে কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ 'আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান এবং এর অধীন ৬ বোর্ডের সভাপতি/প্রতিনিধিদেরকে ০৯-০৭-২০২৬ ইং তারিখ বিকাল ৩টায় সভা আহ্বান করা হয়েছে, আহুত উক্ত সভায় আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ও অন্যান্য ৬টি বোর্ডের প্রধানগন অংশগ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসৃত নীতিমালার আলোকে কওমি মাদরাসাসমূহ মক্তব থেকে দাওরা হাদিস পর্যন্ত মোট ১৪ টি শ্রেণী বিন্যাসের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারী দান অনুদান থেকে মুক্ত থেকে এ বিশাল দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদরাসাসমূহের বৃহত্তম বোর্ডের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানসমূহের স্তরভেদে নীতিমালা গ্রহন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান, পরিদর্শন ইত্যাদি যাবতীয় কার্যাবলী অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে বিভাগ ও শ্রেণী বিন্যাসের মাধ্যমে উল্লেখিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
কওমি মাদরাসার অন্তর্ভুক্ত বিভাগ সমূহের একটি অবিচ্ছেদ্য গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো হেফজ বিভাগ। হেফজ বিভাগ বোর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি মৌলিক বিভাগ হিসাবে বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও নিবন্ধিত। ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে ২২-তম অধিবেশনে গৃহীত ৪৮ নং এর ধারা ২-এর (ঙ) ও (চ) কওমি মাদরাসার স্বকিয়তা, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা উক্ত আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
বিধিবদ্ধ আইনকর্তৃক স্বীকৃত স্বতন্ত্র বোর্ড বিদ্যমান থাকার পর আলাদা হাফেজিয়া বোর্ড করার কোন প্রয়োজন নেই। যদিও প্রাইভেট কিছু হেফজখানা সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান আছে, এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয়ের মহামারির সময়ে কিছু দ্বীনি খেদমত চালু আছে। এ শ্রেণীর প্রাইভেট মাদরাসাসমূহ স্বীকৃত যেকোন বোর্ডের অনুমোদন জরুরী, "কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ"-এর সুপারিশ বেফাকসহ অন্যান্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ সে সকল হেফজখানাকে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে একীভূত করার জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
দেশের বিদ্যমান আইনে কওমি মাদরাসাসমূহ-কে সমন্বিত নিয়ন্ত্রনের স্বার্থে বেফাক সহ আরও ৬টি বোর্ডের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৮ সালের (৪৮ নং আইন) ২(চ) এ কওমি মাদারাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতি সমূহের আলোকে ৬টি কওমি বোর্ডসমূহকে সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রনের স্বার্থে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। উক্ত সংস্থা, উক্ত আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কওমি মাদরাসার সকল প্রকার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন শিক্ষা গবেষণা, প্রশিক্ষণ, যৌথ অবকাঠামো নির্মান, মাদরাসা পরিচালনা রীতি-নীতি গ্রহণ করার লক্ষ্যে প্রণীত আইনে হেফজখানাকে কোন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং আলাদাভাবে বিবেচনা করার কোন প্রয়োজন মনে করা হয়নি। আকস্মিকভাবে কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা ও হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠণ করা প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক, এধরণের উদ্যেগে দেশের সকল কওমি উলামায়ে কেরামকে হতাশ ও মর্মাহত করেছে।
কুরআন শিক্ষায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রাশ্চাত্যদের কুরআন শূণ্য করার একটি পুরানা কৌশল। বিশেষ করে অক্টোবর ৮, ২০১৮ সালের (৪৮) নং কওমি মাদরাসা আইনটি সংশোধনের অজুহাতে বাতিল করার একটি সু-গভীর চক্রান্ত। বাংলাদেশে একটি ইসলাম বিদ্বেষী মহল এভাবে কওমি মাদরাসা স্থাপন ও কুরআন হিফজ করাকে বন্ধ করার অপকৌশল হিসাবে কওমি মাদরাসা স্থাপনের নতুন নীতিমালার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসার সরকারী নিয়ন্ত্রণাধীন করে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিবে, যা দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা বাধাগ্রস্থ হবে মর্মে আশংকা করা হচ্ছে এবং কুরআন হেফজ করার যে চিরচরিত নীতির পরিপন্থি কুরআন হেফজ করার সাথে অন্যান্য বিষয় শিখানো শর্ত আরোপ করলে হেফজ করা দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে। এমতাবস্থায় সরকার হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক বোর্ড করে হেফজ শিক্ষার্থীদের একই সাথে যদি বাংলা, অংক, ইংরেজি অন্যান্য বিষয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে দেয় তাহলে হেফজ শিক্ষার ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের এধরণের অযাচিত হস্তক্ষেপে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। 'কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ' বর্তমান সরকারকে হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক বোর্ড ও কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা বিদ্যমান আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বিধায় অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে আহ্বান জানাচ্ছি।
এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহ্যবাহী ধারাবাহিক কুরআন শিক্ষাকে শৃঙ্খলিত করার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। "কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ" ০৯-০৭-২০২৬ ইং তারিখে এক জরুরী সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)-এর সভাপতিত্বে, সহ-সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, সহ-সভাপতি মাওলানা আলী আজম, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ হামিদী, যুগ্ম-মহাসচিব মেরাজুল হক মাজহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিত ছিলেন।