৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ইউপি সদস্যের দাবি, ‘আমার দেওয়া প্রকল্পই পরিবর্তন করা হয়েছে’; তদন্ত করেছেন পিআইও
আনন্দপুর রাস্তা প্রকল্প নিয়ে অভি'যোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনন্দপুর গ্রামের রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন চেয়ারম্যান। তবে সংশ্লিষ্ট ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
সম্প্রতি আনন্দপুর গ্রামের সাহেদ আহমদের বাড়ির সামনে থেকে ককাই মিয়ার বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তা ইট সলিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আনন্দপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার পক্ষ থেকে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সভায় ওই রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
পরে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে অন্য একটি রাস্তা উন্নয়নের জন্য ওই বরাদ্দ ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আপত্তি জানিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আনন্দপুরের উল্লেখিত রাস্তাটি প্রাথমিকভাবেও কোনো প্রকল্পের তালিকায় ছিল না। তাকে হেয় করা ও মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। সামনে নির্বাচন থাকায় এটি ভোটের রাজনীতির অংশ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যানের দাবি, অভিযোগ ওঠার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় আগামী বরাদ্দ থেকে আনন্দপুরের ওই রাস্তায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের সভার রেজুলেশন অনুযায়ী ১২ নম্বর ক্রমিকে গঙ্গাজল আলিফ সেন্টারের সামনে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্য উৎস থেকে যাত্রী ছাউনির জন্য বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় একই ক্রমিকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত ‘কবির আহমদের বাড়ির পুরাতন ইট সলিং হইতে কুশিয়ারা ডাইক পর্যন্ত ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন’ প্রকল্পে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা (দ্বিতীয় কিস্তি) বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ওই ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। তবে এ বিষয়ে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিন বলেন,‘মিটিংয়ের দিন আমি আমার মাকে নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে ছিলাম। সভা চলাকালীন সময়ে ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ মেম্বারের মোবাইলে ফোন করে একটি প্রকল্প দিতে বললে আমি এই প্রকল্পটি দিই। পরবর্তীতে প্রকল্পের কমিটি গঠনের জন্য ১৮টি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য একই ওয়ার্ডের শহিদাবাদ গ্রামে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জন্য বিব্রতকর।’ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে শিহাব উদ্দিন আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব শুধু আমার প্রকল্পই পরিবর্তন করেননি, মহিলা সদস্য নাঈমা মেম্বারের প্রকল্পও পরিবর্তন করেছেন। অন্যত্র কাজ করেছেন।’ এদিকে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এ সংক্রান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সভার রেজুলেশন ও উপজেলা বিজিসি কমিটির রেজুলেশনের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। ওই নথিতে আনন্দপুর গ্রামের সাহেদ আহমদের বাড়ির সামনে থেকে ককাই মিয়ার বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নের প্রকল্পের নাম উল্লেখ নেই বলে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগের পর বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিষয় পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি বিষয়টি তদন্ত করেছি। তবে তদন্তের রিপোর্ট এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন, আগামী বরাদ্দ থেকে আনন্দপুরের রাস্তাটির জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।’ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ বা কারা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য, ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তায় উন্নয়ন হোক, এটাই তাঁর প্রত্যাশা। দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এদিকে আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাদের দাবিকৃত রাস্তাটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রকল্প নিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।