২:০ ০ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ সুরমায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের হামলা : অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মহিল
বিশেষ প্রতিনিধি:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ দিকে সিলেট-৩ আসন (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
হামলায় আহত হন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কামাল হাসান জুয়েল, বরইকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ, বরইকান্দি ইউনিয়ন মহিলা দল নেত্রী আফিয়া বেগম, জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক বরইকান্দির আজমল আলী পুত্র আজহার অনিক, ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদসহ প্রায় ১৫/২০ জন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। অল্পের জন্য রক্ষা পান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের মো. মোস্তাক আলীর স্ত্রী দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদিকা রহিমা খাতুন ও বরইকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বিউটি আক্তার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ২ টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে মহিলা দল নেত্রী রহিমা খাতুনের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সুরমা কলেজের পাশের কার্যালয়ে নিবাচনী প্রচার ও কৌশল নির্ধারণী জরুরী সভা চলাকালে আওয়ামী লীগ বাহিনী এই হামলা চালায়। হঠাৎ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠি-ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। হামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী আহত হন। আহতরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভয়ে সরকারী হাসপাতালে না গিয়ে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। আর মহিলা নেত্রী রহিমা খাতুন ও বিউটি আক্তার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ সুরমা কলেজের প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
এই বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা কলেজের অধ্যক্ষ সামছুল ইসলাম জানান, হঠাৎ দেখি কলেজের সামনে ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থীর অফিস কে বা কাহারা ভাংচুর করছে। অফিসে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন মহিলা আমার অফিস কক্ষ দৌড়ে প্রবেশ করে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পান।
এই বিষয়ে এসএমপির মিডিয়া অফিসার জেদান আল মুসা জানান, আমরা হামলার খবর শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে রহিমা খাতুন বলছেন নির্বাচনকে বানচাল করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সমর্থকদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। আমি ও আমাদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় দক্ষিণ সুরমা থানা লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বেপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন।
এদিকে এধরনের ন্যক্কার জনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, সিলেট-৩ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি বিবৃতিতে বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে নির্বাচন বান চাল করতে এই ধরনের হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ বাহীনি। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল, মহিলা নেত্রী রহিমা খাতুনসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ট তদন্ত দাবী করি।
উল্লেখ্য: এই হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হোসেন অথিতেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে রহিমা খাতুনের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে নগদ অর্থ দাবী করে। রহিমা খাতুনের অপরাধ সে বিএনপির একজন কর্মী।
অপরদিকে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।