বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০ ২৬
বিশেষ প্রতিনিধি:
২৪ সেপ্টেম্বর ২০ ২৬
৭:৩০ অপরাহ্ণ

স্মার্ট সিলেট গড়ার চালিকাশক্তি অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা: বদলে থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় শতশত কোটি টাকার উন্নয়ন

আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটকে একটি মডেল ও আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখে চলেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) দুই প্রবীণ ও দক্ষ প্রকৌশলী—প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ।  বিশেষ করে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মেয়াদে সিলেটকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে ঢেলে সাজানোর যে রূপকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এই দুই প্রকৌশলীর কারিগরি দক্ষতা ও দূরদর্শিতা ছিল অগ্রগণ্য। তবে সম্প্রতি তাঁদের বদলি সংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে নগরীর সার্বিক অবকাঠামো, দীর্ঘদিনের জলজট ও যানজট নিরসন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নগরবাসীর মনে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন:

নগরীর সার্বিক চিত্র বদলে দিতে এই দুই প্রকৌশলীর অবদান এখন প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক কদমতলী বাস টার্মিনাল নির্মাণ, ধোপাদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে, সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে, গোয়াবাড়ী ওয়াকওয়ে, আরামবাগ ওয়াকওয়ে এবং গাজী বুরহান উদ্দিন এলাকার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে নগরবাসীকে বিনোদনের চমৎকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যা আজ সিলেটের প্রধান সৌন্দর্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

জলজট নিরসন ও ছড়া-খাল উদ্ধার অভিযান:

সিলেটের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট সাময়িক জলজট। বিগত বছরগুলোতে সুরমা নদীর নাব্যতার সংকট সত্ত্বেও নগরীর প্রধান প্রধান ছড়া ও খাল (যেমন: সুরমা নদী সংলগ্ন ছড়া, গোয়ালী ছড়া, মালনীছড়া ইত্যাদি) অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল ও ওয়াকওয়ে তৈরিতে এই প্রকৌশলীদের দৃঢ় ভূমিকা ছিল। অলিগলির রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ এবং টেকসই কালভার্ট তৈরির ফলে নগরীর প্রধান এলাকাগুলো জলাবদ্ধতার হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছে।

নগরীর বিস্তৃতি ও ১ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের জটিলতা:

পূর্বে সিসিক মাত্র ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হলেও সম্প্রতি তা সম্প্রসারিত হয়ে ৪২টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয়েছে। শহরতলির নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নতুন সড়ক নির্মাণ, ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশন ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেটের ১ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি, ছড়া-খালের গতিপথ এবং ভৌগোলিক জটিলতা প্রকৌশলী আলী আকবর ও নূর আজিজের একদম নখদর্পণে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করার ফলে কোন এলাকায় বৃষ্টি হলে পানি কোথায় আটকে যায়, কোথায় বড় ড্রেন প্রয়োজন, বা কোন সড়কটি কীভাবে প্রশস্ত করলে যানজট কমবে—তা তাঁরা খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারেন। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের অভিজ্ঞতা সিসিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

বদলি হলে যে সব জটিলতার আশঙ্কা:

সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অভিজ্ঞ দুই কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হলে সিলেট সিটির উন্নয়ন বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। তাঁদের পরিবর্তে নতুন কোনো প্রকৌশলী দায়িত্ব নিলে, ১ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা ও জটিল সমস্যাগুলো বুঝতেই বছর গড়িয়ে যাবে। ফলে:

১. নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।

২. চলমান উন্নয়ন কাজগুলোর গুণগত মান ব্যাহত হতে পারে।

৩. জরুরি নাগরিক সমস্যা যেমন—বর্ষাকালে হঠাৎ জলজট বা রাস্তা সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

৪. প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার বিলম্বিত হবে।

‘পুরান চাল ভাতে বাড়ে’—অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই:

সিলেটে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে— ‘পুরান চাল ভাতে বাড়ে’। অর্থাৎ যেকোনো বড় দপ্তর বা কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য প্রবীণদের অভিজ্ঞতা অনস্বীকার্য।

সিলেটবাসীর দাবি, সিলেটের মতো ভৌগোলিক দিক থেকে সংবেদনশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল একটি আধ্যাত্মিক নগরীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সিসিক যদি এ ধরনের দক্ষ প্রবীণ প্রকৌশলীদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে অব্যাহত রাখে, তবেই তিলোত্তমা সিলেটের অগ্রযাত্রা সহজ হবে এবং সাধারণ নগরবাসী এর প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ