মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০ ২৬
জাবেদ তালুকদার, নবীগঞ্জ::
৩১ ডিসেম্বর ২০ ২১
৯:৪৫ অপরাহ্ণ

নবীগঞ্জে স্কুলছাত্রী জুবা হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ ও ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে প্রেমিক ও সহযোগী
প্রেমিকের সহযোগীকে দৈহিক মেলামেশার সুযোগ না দেয়ায় শ্বাসরোধ ও গলাকেটে হত্যা করা হয় স্কুলছাত্রী জুবা আক্তার (১৭) কে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ৭২ ঘন্টার মধ্যেই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করলো পিবিআই হবিগঞ্জ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে প্রধান হত্যাকারী খলিল উদ্দিন (২০)। গত ২৭ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার হরিনগর গ্রামস্থ টাওয়ারের পাশ্ববর্তী ধান ক্ষেত থেকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় স্কুলছাত্রী জুবা আক্তারের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেল এএসপি আবুল খায়ের চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ডালিম আহমদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে লাশের ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা সুফি মিয়া বাদী হয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই আব্দুল আহাদ তথ্য প্রযুক্তি’র সহায়তায় নিহত জুবা আক্তারের প্রেমিক হরিনগর গ্রামের মিরাশ মিয়ার ছেলে বাসের হেলপার খলিল উদ্দিন (২০) ও একই গ্রামের মৃত ইশাদ উল্লার ছেলে (সবজি বিক্রেতা) গোলাম হোসেন (৫০) কে আটক করেন। আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর পিবিআই’র নিকট ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় খলিল। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে সে। স্বীকারোক্তির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ২ জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামীদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, আসামী খলিল উদ্দিন ও ভিকটিম জুবা আক্তার এর মধ্যে দীর্ঘদীন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। জুবা আক্তার তার ছদ্মনাম রীমা পরিচয়ে খলিল উদ্দিনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। আসামী গোলাম হোসেন রীমার ছদ্মনাম ও মোবাইল নম্বর খলিলকে প্রদান করেছিল। ধীরে ধীরে খলিল ও রীমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। ঘটনার অনুমানিক ১৫ দিন পূর্বে মধ্যরাতে রীমার সাথে খলিল দেখা করতে আসে। তখন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। ঘটনার আগের দিন রীমা অসুখের কথা বলে খলিলের কাছে টাকা ধার চায়। তখন খলিল দুই হাজার টাকা রীমাকে দিবে বলে জানায়। রাতে দেখা করে টাকা নিতে বলে। সন্ধ্যায় আসামী গোলাম হোসেনের সাথে খলিলের দেখা হয়। তখন খলিল রীমার সাথে রাতে দেখা করতে যাওয়ার বিষয়টি গোলাম হোসেনকে জানালে সে খলিলের সাথে যাওয়ার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে। খলিল ও গোলাম হোসেন ২৭ ডিসেম্বর রাত ১টায় ঘটনাস্থলে যায়। কিছুক্ষণ পর রীমা ঘটনাস্থলে এসে খলিলের সাথে দেখা করে। এ সময় গোলাম হোসেন একটু দূরে আড়ালে লুকিয়ে থাকে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে দৈহিক মেলামেশা হয়। তাদের শারীরিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার সাথে সাথে গোলাম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে রীমার সাথে দৈহিক মেলামেশা করার জন্য জোর জবরদস্তি শুরু করে। কিন্তু রীমা (জুবা আক্তার) বাধা দেয়। তখন খলিল গোলাম হোসেনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে রীমাকে অনুরোধ করে। তাতেও রীমা রাজি না হলে গোলাম হােসেন রীমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওড়না দিয়ে হাত বাঁধে ও গলা পেঁচিয়ে ধরে। রীমার গলায় পেচানো ওড়নার একদিকে গোলাম হোসেন ও অন্যদিক খলিল টান দিয়ে রীমাকে শ্বাসরোধ করে। এ সময় রীমা ছটফট করে মাটিতে গোঙ্গাতে থাকলে আসামীরা তাদের সাথে থাকা ব্লেড দিয়ে গলা কেটে রীমাকে হত্যা করে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ