১০ :২৯ অপরাহ্ণ
মাসুক ও জাকিরের নেতৃত্বে আ'লীগের সফলতার এক বছর
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সফলতার এক বছর অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসেন। সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। সভাপতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন এর নাম সবার সম্মুখে প্রকাশ করেন। তিনি আগামী তিন বছরের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার তাদের ওপর অর্পন করেন।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মহানগর কমিটিকে প্রবীণ ও নতুনের সমন্বয়ে ঢেলে সাজানোর কথা ব্যক্ত করেন। দুজনেই বলেন,আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ফেরিওয়ালা। তাই বঙ্গবন্ধুর অাদর্শকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। তারা বলেন,আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী দলের জন্য কাজ করব। দলকে গতিশীল করার জন্য কাজ করব। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে দলকে পরিচালনার জন্য বিলবোর্ড ও পোস্টার অপসারণের কথা বলেন। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি যারা করেন তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না। তৃণমূলকে প্রাধান্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবেন। তারা বলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দল। তাই দলকে আরও জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন। জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
বিভিন্ন মিডিয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন তারা প্রায় সবগুলো কাজই বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তারা সফলও হয়েছেন। ২০১৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ করার মধ্যে দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ৯ই ডিসেম্বর রেডক্রিসেন্টে প্রথম দলীয় সভার আয়োজন করেন। ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেন। ২৩শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের
জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে ১২০০ কোটি বরাদ্দ দেওয়ায় ৩০শে ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'কে অভিবাদন জানিয়ে বিশাল মিছিল ও সভার আয়োজন করা হয়। ৩০শে ডিসেম্বর সংসদের বছরপূর্তিতে বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। ২০২০ সালের ১০ই জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়। তারা দুজনে ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপনে করতে গিয়ে সিলেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে সবার খালি পায়ে প্রভাত ফেরির আয়োজন করেন। যা জনমনে রুচিশীল ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক চিন্তার উন্মেষ ঘটায়। ৩রা মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ একসাথে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং ২০দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। ৭ই মার্চ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আউটডোরে এই কর্মসূচীর ঘোষণা করা হয়। সিলেটে প্রথমবারের মত একই মঞ্চে রাজনৈতিক সংগঠন থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী,নার্স ও পেশাজীবি সংগঠন অংশগ্রহণ করে। যা সিলেটে নতুন ইতিহাসের অধ্যায় সূচনা করে এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচুঁ শ্রেণির মানুষ দ্বারা প্রশংসিত হয়। ৭ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অতিথিবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। তারা হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত,পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ স ম আরেফিন সিদ্দিক,মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি ,হাফিজ মজুমদার এমপি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক(সিলেট বিভাগ),শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল(ময়মনসিংহ বিভাগ), কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডাঃ মাহতাব আল মামুন স্বপ্নীল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দীন খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দীন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, চার ধর্মের চারজন ধর্মগুরু সহ প্রমুখ। তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ,মুক্তিযুদ্ধ সংসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স,আইনজীবী পরিষদ, নার্স এ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৭ই মার্চ জাতির জনকের জন্মদিবসেও পুষ্পক স্তবক অর্পণ করা সহ একই মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনা মহামারীর কারণে ১৮ই মার্চ অনুষ্ঠান কর্মসূচী বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যান। করোনা মহামারীর সময়ে দলীয়ভাবে ও ব্যাক্তিগতভাবে জনগণকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাহায্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। মহানগর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সকল সদস্যদের নির্দেশনা দেন করোনাকালীন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ সহ খাদ্য সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে সচেতনতার ওপর জোর দেন। দুজনেই নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জনগণের পাশে ছিলেন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ১৪ই এপ্রিল নববর্ষ ও ২৪ মে ঈদের সময় নগরবাসীকে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ১৫ জুন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও জনতার কামরান করোনায় মারা যাওয়ার পরে সুকৌশলে জানাজার আয়োজন করেন যাতে করোনাকালীন স্বাস্থবিধি লঙ্ঘিত না হয়। জনতার কামরানের জন্য ২৭ টি ওয়ার্ডের মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে প্রার্থনা আয়োজনের জন্য মহানগরের পক্ষ থেকে আহবান করা হয়। প্রায় ২০০ টির ওপরে মসজিদ ও মন্দিরে এই আয়োজন করা হয়। ২১শে জুলাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৭ টি ওয়ার্ডে ২০০০ চারাগাছ বিতরণ করা হয়। শোকাবহ আগস্টে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। ৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠ্য পুত্র বীর মুক্তিযোদ্বা শহীদ শেখ কামাল এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট গুলশানে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ৮ই আগস্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর আ.লীগের মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ১৫ আগস্ট বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি কালো অধ্যায়। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে এই দিনে হত্যা করা হয়। সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দরগাহ মসজিদের নিচ তলায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও আরো কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।১৯শে আগস্ট সিলেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্থায়ী প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়।
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহত সকলের জন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২৮শে সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ দরগাহ মসজিদে মিলাদ মাহফিল, শিরনী বিতরণ এবং খতমে কোরআনসহ অসহায় দুস্থ শিশুদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন। ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনে মহানগর আ.লীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২২ ও ২৩শে অক্টোবর দুর্গা পূজা উপলক্ষে প্রথম বারের মত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসাথে মহানগরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে বের হন। যা নতুনত্ব তৈরি করে এবং সনাতন ধর্মালম্বীরা খুবই আনন্দিত হন। ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস পালন সহ রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। ১লা ডিসেম্বর গৌরবময় বিজয়ের মাসে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যারা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ নাসিম এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক,পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন স্বস্ত্রীক তাদের জন্য দরগাহ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের এবং মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। তাছাড়া ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ সহ মহানগর আওয়ামী লীগের যে সব নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশের বিশিষ্টজন মারা গেছেন তাদের জন্য মহানগরের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়। সিলেটের জাতীয় নেতা প্রয়াত স্পীকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী,প্রয়াত আব্দুস ছামাদ আজাদ, প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলো তুলে ধরা হল। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন প্রতিদিনই মহানগরের বিভিন্ন দলীয়,ধর্মীয়,সামাজিক,
সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। সিলেটে এই প্রথম মহানগর আওয়ামী লীগের সারা বছরের দলীয় কর্মকান্ড যা বিভিন্ন পত্রিকায় ও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তা তারা বই আকারে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাছাড়া সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন তার প্রতিদিনের কাজের হিসাব আলাদা করে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। সত্যিই তাদের এই কাজ প্রশংসনীয়। দুজনেই দায়িত্ব নেওয়ার পরে বলেছিলেন যে, তারা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চান। সে পথেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটা প্রোগ্রামেই তারা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করেছেন। যেখানে গ্রুপিং রাজনীতির কোনো ছুঁয়া ছিলো না। তারা আগেই বলেছিলেন, গ্রুপিং রাজনীতির একটাই গ্রুপ তা হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র গ্রুপ। এর বাইরে কোনো গ্রুপ নেই। সবাই আমরা মিলে মিশে দল ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যা বলেছিলেন তা-ই পালন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। করোনা মহামারীর কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি কিন্তু তারপরেও তারা অসাধারণভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুজনে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরে দলীয় কার্যক্রমে আরও বেশি গতিশীলতা আসবে এবং প্রতিটা কাজই হবে জনকল্যাণমুখী। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। সভাপতি সাহেব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তিনি হলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর সাধারণ সম্পাদক সাহেব ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট গুলশানে গ্রেনেড হামলায় আহত বিজয়ী যোদ্ধা। তার শরীরে এখনো ১৮টি স্প্রিন্টার বিদ্যমানের যন্ত্রণা বহমান। সুতরাং তারা জানেন দলের ও দেশের জন্য কিভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র দিকনির্দেশনা পালনের জন্য তারা দুজনেই সবসময় প্রস্তুত আছেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র আবিষ্কার ও আস্থাভাজন দুই নেতাকে নিয়ে কিছু কথা - বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ হলেন একজন সৎ, নির্লোভী, সাদা মনের মানুষ। যিনি সারাটা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে রাজনীতি করে চলেছেন।১৯৬৫ সালে স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৯৬৭ সালে বর্তমান সিলেট সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন। পরে উক্ত কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন। পরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এম.সি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বপালন করেন।
১৯৬৮/৬৯ এর আইয়ুব-ইয়াহিয়া বিরোধী আন্দোলনে সিলেটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যোগদান করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দেশকে স্বাধীন করার জন্য পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। যার ফলশ্রুতিতে তিনি পেয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব।জকিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান (১৯৯০) নির্বাচিত হয়েও জকিগঞ্জের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান পালন করেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ- সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন হলেন সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক। তিনি অত্যন্ত নির্লোভ, পরোপকারী, প্রচার বিমুখ ও কর্মী বান্ধব একজন নেতা। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব তাজিদ হোসেন ছিলেন সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে "সুর্বণ জয়ন্তী " পালন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন বর্ষীয়ান,ত্যাগী, একনিষ্ঠ ও আদর্শবান আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। অধ্যাপক জাকির হোসেন ৭৫' এর কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরবর্তী সময়ে
স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৯ সালে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হয়েই একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখায় সভাপতি নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন। বিশেষ করে খুনি খন্দকার মোস্তাক'কে সিলেটে প্রতিহত করার আন্দোলনে একজন অন্যতম অগ্রসৈনিক ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের একাধারে পাঁচটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১-৯৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক (সাধারণ সম্পাদকের পদ মর্যাদায়) দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০০১ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১১-২০১৯ সাল পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
দুজনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ফেরিওয়ালা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক আস্থা নিয়ে তাদেরকে দায়িত্ব দেন। তারা অত্যন্ত ক্লীন ইমেজের মানুষ হিসেবে স্বীকৃত। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই খুবই দক্ষতার সহিত দুজনে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অচিরেই ঘোষিত হবে। তারপর তারা সংগঠনকে ও ২৭ টি ওয়ার্ডকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। সফলভাবেই তারা একটি বছর পূর্ণ করেছেন।
"ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ " এই বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগকে সারা বাংলায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান এবং প্রিয় নেত্রীর এই কথাকে "জনগণের কাছে যান, তাদের খুঁজ খবর নেন " বাস্তবায়ন করতে চান। তাদের সুযোগ্য নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে, এই প্রত্যাশা সকলের।গুণগত পরিবর্তন রাজনীতিতে আসুক, সকল অপশক্তি দূর হোক। দ্বিতীয় বছরের সফলতার জন্য শুভকামনা রইল। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক ও কলামিস্ট ।