সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০ ২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
৪ অক্টোবর ২০ ২৬
৬:০ ৯ অপরাহ্ণ

মাধ্যমিক সুপার ভাইজারের কালো জাঁদুতে শাল্লায় নীতিমালার বাহিরে প্রাথমিকের শিক্ষক বদলী

সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে বদলির করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষক বদলী যাচাই বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক বদলী না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো শিক্ষক বদলি কার্যকর করায় বিরূপ প্রভাব ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শাল্লার প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গন সহ জনমনে।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার কালিপদ দাস এই কমিটির এক সদস্যের মনোনীত প্রতিনিধি হওয়ায় অন্যান্য সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে উনার স্ত্রীকে নীতিমালার বাহিরে বদলী করিয়েছেন। তবে এই বদলীর আগেও একবার শাসখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রত্না রাণী দাসকে প্রথম দফায় বদলির আবেদন সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী না হওয়ায় স্বয়ং শিক্ষক বদলি কমিটি তার আবেদন বাতিল করেছিল। অদৃশ্য কারনে সেই একই শিক্ষকের দ্বিতীয় দফায় বদলির আবেদন অনুমোদন করে শিক্ষক বদলি যাচাই বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটি। সরকারি নীতিমালা বহির্ভূত এই বদলিতে শিক্ষক ও সচেতন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

সূত্রে জানা যায়, সরকারি নীতিমালায় যেসব বিদ্যালয়ে কর্মরত ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন এসব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে যেকোন একজন শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ের শূণ্য পদে বদলি করা যাবে। কিন্তু শাশখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৬০ শিক্ষার্থী ও কর্মরত ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে সহকারি শিক্ষক রত্না রাণী দাসকে বদলি করা হয় রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এই রঘুনাথপুর বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬৬ জন এবং বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা ৫ জন। ১৬০ জন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে ৫জন শিক্ষক না রেখে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে ৫ শিক্ষক করার এর মুল রহস্য নিয়ে চলছে জটিল সমীকরণ। এবিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক রত্না রাণী দাস বলেন, আমি আবেদন করেই বদলি হয়েছি। এর বেশি আমি কিছু জানি না৷ আপনার সাথে সরাসরি কথা হবে বলেই ফোন কেটে দেন।

এব্যাপারে শিক্ষক বদলি কমিটির সদস্য ও শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার) বলেন, আমি সবসময় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের বদলির কথা শুরু থেকেই বলে আসছি। তারপরেও শিক্ষক রত্না রাণী দাস কিভাবে বদলি হয়েছেন সেটা কমিটির অন্যান্য যারা আছেন তারাই ভাল বলতে পারবেন। অপর সদস্য শাল্লা উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়ালের বক্তব্য জানতে বারবার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায়, তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি ওয়াটসএ্যাপে কল দিয়ে জানান, শিক্ষক রত্না দাসের বদলিটা মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে করা হয়েছে। আমি শাল্লার বাহিরে আছি আগামীকাল সরাসরি এসে কথা বলব।

কমিটির আরেক সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার কালীপদ দাস দায়িত্ব পালন করেন। যিনি বদলীকৃত শিক্ষক রত্না রাণী দাসের স্বামীও বটে। তার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ভাই বদলিটা যেকোন ভাবেই হোক হয়েতো গেছে।

আপনাদেরকে মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করব। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য সচিব পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষক রত্না রাণী দাসের প্রথম আবেদন নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায় রিজেক্ট হয়েছিল এটা সত্যি। তবে দ্বিতীয় দফায় রত্না রাণীর বদলির আবেদনের বিষয়ে কমিটির সবাইকে সরকারি প্রজ্ঞাপন বারবার পড়ে শুনানোর পরেও ঐ শিক্ষককে শাশখাই বিদ্যালয় হতে রঘুনাথপুর বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাশ বলেন, এই বদলিটা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম বহির্ভূত, এমনটা হওয়ার কথা নয়। প্রতিটা উপজেলায় শিক্ষক বদলির কমিটি আছে। ঐ কমিটি কিভাবে এই বদলির আবেদন মঞ্জুর করেছে সেটা আমি বলতে পারব না৷ তারপরেও আমি খোঁজ নিচ্ছি, যদি এমনই হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, কর্মরত ৫জন শিক্ষকের স্কুল থেকে শিক্ষক বদলির কোনো সিস্টেম নেই।

কিন্তু শিক্ষক রত্না দাসের একাধিক আবেদন করায় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে তাকে বদলি করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাইফুল হাসান বলেন, এসব বদলীর বিষয়ে উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে নীতিমালার বাহিরে বদলী করার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি দেখছেন বলে তিনি জানান।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ