৭:৪২ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যানসহ ৯ন জনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে জর্জ আদালতকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা
আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। তদন্তে প্রমানিত হলেও দুর্ণীতি দমন কমিশন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমদকে অব্যাহতি দেওয়ায় উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করেছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর। রীট আবেদনের শুনানি শেষে শমশেরনগরের ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদসহ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে উচ্চ আদালতে কারণ দর্শাণোর করা হয়েছিল। এবার উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহনে জর্জ আদালতকে উচ্চ আদালত নির্দেশনা প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এনেক্স ২৭ আদালতে ৩০১৯/১৮ মামলার শুনানি শেষে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মামলার মূল বাদি শমশেরনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, বৃহস্পতিবার সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এনেক্স ২৭ আদালতে শুনানি শেষে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪০টি প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় শমশেরনগরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর গত ২০১৬ সনের ২৩ মার্চ শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদসহ সংশ্লিষ্টদের আসামী করে দুর্ণীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন। দুদক হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার অঞ্চল থেকে অভিযোগের আংশিক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে ইউপি চেয়ারম্যানকে আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। সাথে সাথে ১১ লক্ষাধিক টাকা সরকারি তফশীলি ব্যাংকে ফেরৎ প্রদানের পর পুরো অভিযোগ(মামলা ৯/১৬) থেকে চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমদকে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দুদক সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষ বরাবরে প্রতিবেদন জমা করেছিলেন। আবেদনকারী উচ্চ আদালতে দুদকের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। দীর্ঘদিন মামলাটি বিচারাধীণ থাকার পর গত বছর ২৪ জুলাই এনেক্স ২৭ নং কোর্টে ১১১ নম্বর আইটেম হাইকোর্ট তালিকায় বিচারাধীণ তালিকায় আসে। পরবর্তীতে ১৪ সপ্তাহ মামলাটি বিভিন্ন পর্যায়ে শুনানির মাধ্যমে বিচারপতি মোঃ নাজমুল ইসলাম তালুকদার ও কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চে গত ১২ জানুয়ারি ২০২০ শুনানি শেষে শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমদসহ ৯ জনকে কারণ দর্শাণোর নোটিশ প্রদান করে তলব করেন। উচ্চ আদালত ফৌজদারী রিভিশন নং-৩০১৯/২০১৮ (উদ্ভূত স্পেশাল পিটিশন নং ০৯/২০১৬ (কমল) সিনিয়র জজ মৌলভীবাজার মূলে শমশেরনগরের চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমদসহ ৯ জনকে কারণ দর্শাণোর নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য আজব আলী, ঠিকাদার জোসেফ রাল্ফ, তার স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য মেরী রাল্ফ, ঠিকাদার খালিছ মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য মো. জিতু মিয়া, ঠিকাদার জুনেদ মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য শেলী রানী পাল ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. মাসুক মিয়া। উচ্চ আদালতের কারণ দর্শাণোর জবাব প্রদানের পর বৃহস্পতিবার (২৭ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে আদালত মৌলভীবাজার জর্জ আদালতকে নির্দেশনা প্রদান করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহন করতে। মূল মামলার বাদি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর আরও বলেন, এখন আর তিনি বাদি থাকছেন না। জর্জ আদালত সম্ভবত দুদুকের মাধ্যমে মামলা গ্রহন করবে।