৬:১৪ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে তর্কা'তর্কির জেরে আলম হ'.ত্যা !
সিলেটের জকিগঞ্জে আলম হোসেন হ'.ত্যা মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, একমাত্র এজাহারভুক্ত আ'সামির দৃ'ষ্টান্ত'মূলক বিচার, পূর্বে দায়ের করা অভি'যোগগুলোর পুনঃতদন্ত এবং ভু'ক্ত'ভোগী পরিবারের সার্বিক নিরা'পত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নি'হ'তের স্বজনরা।
রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নি'হত আলম হোসেনের পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর বোন হাজরে বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নি'হতের মা নাসিমা বেগম, বাবা ওয়ারিছ আলী, হ'ত্যা মাম'লার বাদী জসিম উদ্দিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে হাজরে বেগম বলেন, গত ১ জুলাই স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর ভাই আলম হোসেন হামলার শিকার হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পারভেজ আহমদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিক নয়; দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, হামলা, মারধর, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ২০২০ ও ২০২১ সালে জকিগঞ্জ থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারের দাবি, আগের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হতে পারত। দীর্ঘদিনের সহিংসতায় পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার একমাত্র আসামিকে জামিনে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্নভাবে আপস-মীমাংসার জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, তারা কোনো আপস চান না; আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারই তাদের একমাত্র প্রত্যাশা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিহতের মা নাসিমা বেগম ও বাবা ওয়ারিছ আলী অভিযোগ করেন, পারভেজ আহমদের হামলায় তাঁদের এক মেয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের এক নাতিকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আলম হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়েক বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে না থেকে জকিগঞ্জ পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা আরও দাবি করেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে দেওয়া অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত হলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে সেটিও উদ্ঘাটিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আলম হোসেন হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামির দ্রুত বিচার, ২০২০ ও ২০২১ সালে দায়ের করা অভিযোগগুলোর পুনঃতদন্ত, সে সময় তদন্তে কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান নিহতের স্বজনরা। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিহতের পরিবারের বক্তব্য। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ আহমদ বা তাঁর পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।