বুধবার, জুলাই ৮, ২০ ২৬
ডেস্ক নিউজ:
৩০ অক্টোবর ২০ ২৫
৫:৫২ অপরাহ্ণ

সিলেটে যুবলীগ নেতা বিশ্বজীৎ দেবনাথের কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকিতে পলাতক

সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চালিবন্দর এলাকার শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজীৎ দেবনাথ প্রাণনাশের আশঙ্কায় বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মহলের বিরাগভাজন হওয়া এবং সম্প্রতি মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, ধারাবাহিক হয়রানি ও হত্যার হুমকির মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বজীৎ দেবনাথ সিলেট নগরীর চালিবন্দর এলাকার সমতা ১৭/৪-এর স্থায়ী বাসিন্দা। তার পিতা বাদল চন্দ্র দেবনাথ ও মাতা মুকুল রানী নাথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে বিশ্বজীৎ দেবনাথের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চালিবন্দর মহাশ্মশান ঘাট সংলগ্ন শ্রী শ্রী ভৈরব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা, মন্দিরের উন্নয়ন এবং মন্দিরের বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মন্দির কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর সময়ে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে মন্দিরের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এ কারণে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় হিন্দু জনগণের সঙ্গে দখলদারদের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ২০১৬ সালে স্থানীয় উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত মোঃ খলিল মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরের তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে, মন্দিরের পবিত্রতা বিনষ্ট করে এবং মূর্তি ভাঙচুর করে। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুশান্ত চক্রবর্তী বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (জিআর নম্বর ১২৩/২০১৬)। উক্ত মামলায় বিশ্বজীৎ দেবনাথ মন্দিরের স্বার্থরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোঃ খলিল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে ০৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই ঘটনার পর থেকেই বিশ্বজীৎ দেবনাথ স্থানীয় একটি উগ্র ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হন। বিশ্বজীৎ দেবনাথ, জামিনে মুক্তির পর থেকেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, জামায়াত নেতা খলিল মিয়া ও নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় একদল উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী বিশ্বজীৎ দেবনাথের কাছে ১০ লাখ টাকা ‘জিজিয়া কর’ দাবি করে। এই চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আরও অভিযোগ, খলিল মিয়া ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ায়। এর ফলে ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন। বিশ্বজীৎ দেবনাথের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মন্দির ও এর সম্পত্তি রক্ষায় অনমনীয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণে স্থানীয় নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী তার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। সংখ্যালঘু ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও জীবননাশের হুমকির কারণেই জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানা গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এদিকে সিলেটে সংখ্যালঘু নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এমন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে দেশের যেকোনো নাগরিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। তারা এই অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ