রবিবার, মে ২৪, ২০ ২৬
স্টাফ রিপার্টার
২৩ মে ২০ ২৬
৬:০ ৫ অপরাহ্ণ

ওসমানীনগরে হ'.ত্যাকা-কে কেন্দ্র করে ৬ পরিবারের বাড়িতে অ'গ্নি'সংযোগ-লু'টপা'টের অভি'যোগ!

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় একটি হ'/ত্যা'কা-কে কেন্দ্র করে ৬টি পরিবারের বাড়িতে অ'গ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লু'ট/পাটের অভি'যোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ক্ষ'তি'গ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র মা'ন'বেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভি'যোগ করেছেন ভু'ক্তভো'গীরা।

শনিবার (২৩ মে) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভি'যোগ করেন উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মামুন মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেহেনা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেশী সৈয়দ আব্দুর রশিদ প্রকাশ আখলিছ মিয়ার সঙ্গে পূর্ব বি'রো'ধের জেরে মা’রা’মারির ঘটনা ঘটে।

এ সময় মা'রা'মারি থামাতে এগিয়ে আসেন গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়া। সংঘর্ষ চলাকালে তিনি ছুরিকাঘাতে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তিনি বলেন, কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে সেটি স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ আখলিছ মিয়া এবং তার বলয় পুরো বিষয়টি আমাদের পরিবারের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলায় একতরফাভাবে তাদের ৬টি পরিবারের পুরুষ ও মহিলাদের আসামি করা হয়েছে।

এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ও শিশুদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রেহেনা বেগম দাবি করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের পরিবার পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে এবং তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন। এ সুযোগে গত ৭ মার্চ সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের ধ্বংসযজ্ঞে পুরো বসতবাড়ি শুন্য মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আমরা জানি না আমাদের অপরাধ কী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সৈয়দ আব্দুর রশিদ প্রকাশ আখলিছ মিয়া, সৈয়দ শাহিনুর রশিদ, সৈয়দ শাহেদুর রশিদ, ফুলজার মিয়া, ফয়ছল মিয়া, কাওছার মিয়া, রায়হান মিয়া, ফরহান মিয়া, আজিম মিয়া, ফারুক মিয়া, আব্দুছ ছালাম, রুয়েল মিয়া, সুহেল মিয়া, তারেক মিয়া, রেসন মিয়া, দিদার মিয়া, নোমান মিয়া, লুকমান মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রেহেনা বেগম আরও জানান, তারা বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতেও মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আসামিদের ভয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী মুরশিদা বেগম ও সৈয়দা ছামিয়া বেগম বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে মাজেদা বেগম ও সৈয়দা সুনিয়া বেগম।

অন্যদিকে ইমন রহমান, মাইশা জান্নাত, মহিমা জান্নাত, সাইফুল আলম ও মারজান আহমেদ মোহাম্মদ আলী মেহেরুন নেছা একাডেমী স্কুলে অধ্যয়নরত। এছাড়া হাফিজা জান্নাত ও ফারজানা পশ্চিম সিরাজনগরের ‘শিখন’ স্কুলের শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম তাদের বাড়িঘরে নিরাপদে বসবাস এবং সন্তানদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ