বুধবার, এপ্রিল ১, ২০ ২৬
রাজেশ ভৌমিক, মৌলভীবাজার::
৩১ মার্চ ২০ ২৬
৮:৪২ অপরাহ্ণ

শ্রীমঙ্গলে বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক ও ভুবন চিল উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে একটি বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক ও একটি আহত ভুবন চিল উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের নতুন বাজার এলাকায় শ্যামল দেবের গুড়ের দোকান থেকে একটি তক্ষক উদ্ধার করা হয়। সকালে দোকান খোলার পর কর্মচারীরা ভেতরে তক্ষকটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

এ সময় কিছু ব্যক্তি তক্ষকটি উচ্চমূল্যে বিক্রির গুজব ছড়াতে থাকেন। পরে দোকানের মালিক শ্যামল দেব বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে সংগঠনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদ্বীপ দেব দ্বীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তক্ষকটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে, একই উপজেলার আরেকটি স্থান থেকে সোমবার রাতে ঝড়ে জননী ভান্ডারের মালিক যোগেন্দ্র পালের বাড়ির একটি গাছ থেকে ভুবন চিলের একটি বাচ্চা নিচে পড়ে যায়।

এতে পাখিটি সামান্য আহত হয়। খবর পেয়ে একই দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে সেটিকেও বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। সংশ্লিষ্টরা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত কোনো গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, তক্ষক একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী।

এ প্রাণী কেনাবেচা বা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তক্ষক নিয়ে প্রচলিত উচ্চমূল্যের গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তারা উল্লেখ করেন। তারা আরও জানান, তক্ষকের ডাক চড়া ও স্পষ্ট, যা অনেক দূর থেকে শোনা যায়। এরা সাধারণত কীটপতঙ্গ, ছোট টিকটিকি, পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে থাকে এবং ঘরের ফাঁক-ফোঁকর বা গাছে বসবাস করে। ব্যাপক নিধনের কারণেই এ প্রজাতি এখন বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ