মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০ ২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::
২৭ জানুয়ারী ২০ ২৬
১:৫০ অপরাহ্ণ

মেয়ে সমকামী: ত্যাজ্য ঘোষণা করলেন অসহায় বাবা!

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একটি এলাকায় সমকামিতাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বাবা তার প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি একটি নোটারি করা হলফনামার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আয়না মিয়া (জন্ম: ১৪ আগস্ট ১৯৬৫) তার কন্যা সাদিয়া সুলতানাকে জন্মের পর থেকে লালন-পালন ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে বড় করে তোলেন।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ব্যয় করেছেন এবং তাকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তবে নোটারি ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সাদিয়া সুলতানা (জন্ম: ২০ ডিসেম্বর ২০০০) এমন একটি সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন, যা পরিবারের দাবি অনুযায়ী সমকামিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিবার সামাজিকভাবে চাপে পড়ে এবং এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবার থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাদিয়া তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। ফলে পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তারা সামাজিকভাবে অপমান, মানহানি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আয়না মিয়া একটি নোটারি হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কন্যার সঙ্গে সব ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। হলফনামায় তিনি জানান, ভবিষ্যতে মেয়ের কোনো কার্যকলাপ বা সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি বা তার পরিবার কোনোভাবে জড়িত থাকবেন না।

এ বিষয়ে আয়না মিয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা বললে তিনি বলেন, আমার মেয়ে লেখাপড়ার জীবন থেকে একটি মেয়ের সঙ্গে সমকামিতার মতো জঘন্য পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে এবং এটা তার কলেজে জানার পর আমাকে ডাকা হয় এবং আমাকে অসম্মান করা হয়। পরে সে আবার পার্কে এমন করলে এলাকার মানুষ আমাকে জুতার মালা দেয় মেয়ের জন্য।

তাও আমি মেয়েকে বুঝিয়েছি সমকামিতা ছেড়ে দিতে, কিন্তু সে আমাকে জানায় বিদেশে পড়ার সুযোগ দিলে সে এসব ছেড়ে দেবে। তাই আমি আমার সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে আমাদের সঙ্গে বেঈমানি করে এবং বলে সে সেখানে একটি মেয়েকে বিয়ে করবে। তাই আমি অসহায় হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে আমাদের আর কেউ নয় এবং সে একটা প্রতারক।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে সম্মানের চোখে দেখছেন, আবার কেউ সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, এই মেয়েকে সামাজিকভাবে বয়কট করা সময়ের দাবি এবং আয়ান মিয়া সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ