মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০ ২৬
মোঃ নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া ::
২৫ মে ২০ ২৫
১১:০ ৫ অপরাহ্ণ

চা-শ্রমিকদেরকে একটি গুষ্টি তাদের নিজেদের পকেটস্থ করে রেখেছে-কুলাউড়ায় ডা. শফিকুর রহমান

চা-শ্রমিক সন্তানদের প্রতিভা বিকাশে আমরা সব সময় পাশে থাকবো। বাগান মালিকরা চাইলে চা- শ্রমিক সন্তানদের উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে।

কিন্তু তারা কেনো তা করে না। পৃথিবী এখন এগিয়ে যাচ্ছে, আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাগানে অনেক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই বাগানে যারা জন্ম নিয়ে বড় হয়েছে, এবং বাগানকে বুকে যারা ধারন করে চলছেন, তাদেরকে শিক্ষিত করে তাদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিলে বাগানের উৎপাদন বাড়বে।

তাতে মালিকরাও খুশি, শ্রমিকরাও খুশি থাকবে। দীর্ঘদিন থেকে এই চা-শ্রমিকদেরকে একটি গুষ্টি তাদের নিজেদের পকেটস্থ করে রেখেছে। আমরা এই প্রথা ভেঙ্গে তাদেরকে আলোর মুখ দেখাতে চাই। আমরা চাই না তারা আর কারো অবহেলার পাত্র হয়ে থাকুক।

রোববার (২৫ মে) মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শহরের স্থানীয় ‘দখিনা দাওয়া’ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, শনিবার (২৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে বলেছি আপনি একজন সম্মানিত মানুষ, আমরা সবাই আপনাকে এই মহান দায়িত্ব দিয়েছি। আপনি বলেছেন, এই বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে আপনি নির্বাচন দেবেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এমন একটি নির্বাচন হবে যেখানে একটি ইতিহাস তৈরি হবে। প্রত্যেকটি মানুষ হাসিমুখে ভোট দিয়ে বের হবে।

কেউ গিয়ে দেখবে না যে, একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে এসেছে। বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, ‘মানবিক করিডরের প্রশ্নই ওঠে না। মানবিক করিডরের ব্যাপারে আমরা (প্রধান উপদেষ্টাকে) “নো” বলে এসেছি, বন্দরের ব্যাপারে “নো” বলে এসেছি। দেশের স্বার্থের বিরোধী আমরা কোনো কিছুতে “হ্যাঁ” বলিনি। দেশের স্বার্থ বিচ্যুত হবে, সেখানেই আমাদের “নো”।

আমরা বলেছি, এই দুইটা বিষয়ে না আগানোই ভালো।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের যদি এ ধরনের কোনো ইস্যু থাকে, তাহলে সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এখন যদি সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বসতে হবে, তাদের নিয়ে কথা বলতে হবে, তাদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। তারপর সামষ্টিকভাবে দেশের জন্য ভালো হবে এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মতবিনিময় সভায় কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওঃ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা পল্টন থানা জামায়াত ইসলামীর আমির শাহীন আহমেদ খান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওঃ আব্দুর রহমান, সেক্রোটারী ইয়ামীর আলী, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওঃ আব্দুস সোবহান, সাবেক আমির আব্দুল হামিদ খাঁন, জামায়াত নেতা মাওঃ আমীনুল ইসলাম, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল আহমেদ চৌধুরী। চা-শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়চন্ডী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চা- শ্রমিক নেতা মিলন বৈদ, চা শ্রমিক ইউনিয়ন লংলা ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু গোস্বামী, জয়চন্ডী বাগান চা- শ্রমিক পঞ্চায়তের সভাপতি রাজমোহন গোয়ালা। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানের বিপুল সংখ্যক চা-শ্রমিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর আগে সকালে ব্রাহ্মণবাজারে জামায়াত ইসলাম সমর্থিত এক মহিলা সমাবেশ এবং মৌলভীবাজার জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন,শমশেরনগর ইউনিয়ন, শরীফপুর ইউনিয়ন ও হাজীপুর ইউনিয়নে সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে মতবিনিময় ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ