৫:৩৩ অপরাহ্ণ
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন দাবি আদায়ে ডাকা জনসভার অনুমতি না দেওয়ার অভি'যোগ
সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবি আদায়ে আহূত জনসভার প্রশাসনের অনুমতি চেয়েও না পাওয়ার প্রতি'বাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’। গত ১৮ এপ্রিল সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে নির্ধারিত জনসভা স্থগিতের ঘটনায় শনিবার ২৫ এপ্রিল নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা বা অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে এ জনসভা আহ্বান করা হয়েছিল।
এ জন্য পুলিশ কমিশনারের নিকট যথাযথ নিয়মে লিখিত আবেদন করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেন। তবে পরদিন পুলিশ কমিশনার সংগঠনের নেতাদের ডেকে স্বায়ত্তশাসন ও সিলটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি বাদ দিয়ে জনসভা আয়োজনের শর্ত দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা এসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন, তাই তা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
এতে পুলিশ কমিশনার এ দাবিসহ জনসভা করার অনুমতি না দেওয়ার কথা জানান। ফলে সংগঠনটি তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, এটি তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের পরিপন্থী। তারা দাবি করেন, ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ কোনো নিষিদ্ধ বা আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন নয়; বরং সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবির পক্ষে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর গঠনের পর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষার স্বীকৃতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর চৌহাট্টাস্থ শহীদ মিনারে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কর্মসূচি, ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সিলটি ভাষাকে দ্বিতীয় অফিসিয়াল ভাষা করার দাবিতে মানববন্ধন এবং ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কোর্ট পয়েন্টে প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সিলটি ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা, যার নিজস্ব বর্ণমালা ‘সিলটি নাগরী লিপি’ রয়েছে।
দেশে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন এবং প্রবাসেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। অনেক গবেষক এই ভাষার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরে তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক রাষ্ট্রভাষা চালু রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে সিলটি ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন, যার অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন জরুরি। তারা দাবি করেন, রাজধানী থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো সিলেটবাসীর প্রাণের দাবি। সরকার বিষয়টি বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে।