৬:৩১ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটিতে প্রাণীদের সঙ্গেই আনন্দ খুঁজছেন মানুষ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, যা ‘সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামে পরিচিত, সেখানে নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপস্থিতি একপর্যায়ে জনস্রোতে রূপ নেয়। চিড়িয়াখানার মূল ফটকে বসেছে নানা রকম পসরা, দোকানপাট ও নাগরদোলাসহ ছোটখাটো মেলা। ঈদের ছুটিকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের আনন্দে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
প্রবেশদ্বার পেরোতেই বিভিন্ন পশু-পাখির কিচিরমিচির আর রঙিন ও বিরল প্রজাতির পাখির সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এখানে রয়েছে রাজহাঁস, সরালি হাঁস, ধনেশ, হরিয়াল, সাদা ঘুঘু, বনমোরগ, ডাহুক, কবুতর, রাম ঘুঘু, তিতির, ময়না, টিয়া, তোতা ও সাদা বকসহ নানা প্রজাতির পাখি। পাশাপাশি দেখা যায় চশমা পরা হনুমান, শকুন, সোনালি কচ্ছপ, শঙ্খিনী সাপ, মেছোবাঘ ও অজগর।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে সোনালি বানর, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া সাদা বাঘ, মায়া হরিণ, ভাল্লুক, অজগর, সজারু ও হিমালয়ান পাম সিভিটও ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। চিড়িয়াখানার এক কোণে অজগরের খাঁচা ঘিরে ছিল আলাদা ভিড়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক বছর আগে এখানে থাকা একটি অজগর জোড়া ৪০টি ডিম দেয়। পরে সেগুলো থেকে বাচ্চা ফুটে লাউয়াছড়া ও সাতছড়ি বনে অবমুক্ত করা হয়। ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে চিড়িয়াখানাকে বেছে নিয়েছেন। শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
কোথাও বাবার কাঁধে বসে শিশু বাঘ দেখছে, আবার কোথাও মায়ের হাত ধরে ছুটে যাচ্ছে বানরের খাঁচার সামনে এমন দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বগুড়া থেকে আসা রিফাত আহমেদ বলেন, 'ঈদের দিনে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আগে কখনো আসিনি, আজ প্রথমবার এলাম।' রফিক মিয়া বলেন, 'ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে এখানে আসতাম। এখন নিজের সন্তানকে নিয়ে এসেছি—এটা অন্যরকম আনন্দ।' নেত্রকোনা থেকে আসা সানজিদা শারমিন বলেন, 'বাচ্চারা বই বা মোবাইলে প্রাণী দেখে, কিন্তু বাস্তবে দেখার আনন্দ আলাদা। তাই ওদের নিয়ে এসেছি।' ঢাকা থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, 'অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে বাইরে বের হলাম। ভিড় বেশি হলেও সময়টা উপভোগ করছি।' চিড়িয়াখানার কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রাজদ্বীপ দেব জানান, ঈদের পুরো ছুটিজুড়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন। ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষের আগমনের আশা করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানার সামনে টিকিট কাউন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও সিএনজির অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা যেন পরিণত হয়েছে শিশুদের এক আনন্দমেলায়—যেখানে হাসি, উচ্ছ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনের উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।