৭:৪৩ অপরাহ্ণ
ফাইল ছবি
শ্রিগ্রই টাষ্ক ফোর্স অভিযানে নামবে----সিলেটের জেলা প্রশাসক
জকিগঞ্জ- কানাইঘাটের অন্তত: ২৫ টি গ্রামের বাড়ীঘর গুরুত্বপূর্ণ ন্থাপনা ভা’ঙ্গনের ক’বলে
সিলেটের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোতসব চলছে। ফলে নদী তীর, কৃষি জমি, বাড়ীঘর সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধংশ হয়ে যাচ্ছে। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটে ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু তোলার ভয়াবহ চিত্র চোখে না দেখলে বিশ^াস করা যায় না। দেখলেই মনে হয় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা কত নির্মম, নির্দয়।
বসত ভিটা, বাঁশবাগান, বৃক্ষরাজি, ফসলী জমি সহ সাজানো সংসার উজাড় হচ্ছে অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে। পরিবেশ ধংশী বোমা মেশিন, সেইফ মেশিন লাগিয়ে বালি উত্তোলন চলছে। কিন্তু প্রশাসন নিরব। পর্যটন স্পট যাদুকাটা নদী তীর, শিমুল বাগান প্রভৃতি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী তীরের ঘাগটিয়া ও কানাইঘাট, জকিগঞ্জের তীরবর্তী অবস্থা ভয়াবহ। ঘটিয়া গ্রাম বিলীন হতে চলছে। ভাঙ্গনের মুখে বাড়ী ছেড়ে ঘাগটিয়া ও কানাইঘাটের অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। কোন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে, কোন স্থানে মহল বিশেষকে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ করে ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে বালি উত্তোলন চলছে। সিলেটের জকিগঞ্জ,কানাইঘাটে ইজারা বহির্ভূত যায়গা থেকে বালি উত্তোলন করে দৈনিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এতে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে সুরমার নদী তীরে মোট ২৫ টির বেশী গ্রাম সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে: জকিগঞ্জের শরিফাবাদ, কোনাগ্রাম, নয়া গ্রাম, চক গ্রাম, বুরহানপুর, বারইগ্রাম, ফইল গ্রাম,দিঘীরপার, কাকুরা, সিঙ্গারপার, গোলাঘাট, দত্তগ্রাম,গোদার বাজার, ডালাহানি গ্রাম এবং কানাইঘাটের ভাটজি গ্রাম, উমরগঞ্জ, বাঘার বাজার, দক্ষিণ বড়দেশ, কাইস্থগ্রাম, চন্দ্রপুর, চলিতাবাড়ী, পাত্র, ঝিঙ্গাবাড়ী প্রভুতি।
জকিগঞ্জের শাহগলির চক গ্রামের মারুফ নামের স্বল্প আয়ের বাসিন্দার বসত ভিটা সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি দিন রাত আহাজারি করছেন। তার আহাজারি দেশ-বিদেশে ভাইরাল হলেও কোন প্রতিকার নেই। বরং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা মারুফকে হুমকী দিয়ে চলছে। মারুফ বলেন, ‘অনেকই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। স্ত্রী ও ছোট তিন বাচ্ছা নিয়ে আমার যাওয়ার যায়গা নেই।’ পরিবেশ ধংশী ‘চারটি হাইড্রোলিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে ২০-২২ টি বড় বড় ষ্টীল বডি নৌকায় দৈনিক অন্তত: ৮০ লক্ষ টাকার বালু উঠানো হচ্ছে। এলাকার সবজি গ্রাম সমবায় সমিতির কোটি টাকা ব্যয়ে পানির পাইপ লাইন বিলীন হওয়ার পথে। হুমকীর মুখে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদ, বসতবাড়ী, হাটবাজার, দোকানপাট, ফসলী জমি,স্কুল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান।
গ্রামবাসীর অনেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন। সূত্র মতে, জনৈক ব্যক্তি এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা ইজারা মূল্যে সুরমা নদীর দক্ষিণের অংশে জকিগঞ্জ নয়াগ্রাম এলাকার একটি বালু মহাল ইজারা নেন। কিন্তু ইজারাদারের লোকজন ইজারা বহির্ভূত কানাইঘাটের কায়স্থগ্রাম সহ আরো কয়েকটি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বালি উঠাচ্ছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্রামবাসী জানান, এতে এলাকার বহু স্থাপনা নদী ভাঙ্গনে পড়েছে। ৫ মন্ত্রীর কাছে আবেদন: প্রতিকার চেয়ে বুধবার সিলেটের জেলা প্রশাসক সহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৫ জন মন্ত্রী- বিদ্যুত জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, নৌপরিবহন মšন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।
সিলেটের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ অভিযোগ শুনেছি। কোন ধরণের অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেয়া হবেনা। এসবের বিরুদ্ধে শিগ্রই টাষ্ক ফোর্স নামানো হবে।’ এদিকে গত ৩০-৬-২০২৬ তারিখ জেলা প্রশাককে লিখিত ভাবে অবহিত করলে জেলা প্রশাসক সংস্লিষ্ট কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার টিএনও-কে জরুরী ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। নিদের্শনার পর উপজেলা প্রশাসন আবারো ‘লালপতাকা’ টানিয়ে ইজারাকৃত ভূমি চিহ্নিত করে ইজারাদাকে সতর্ক করেন।
কিন্তু তারা ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করে চলছেই। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের চোখ ফকি দিতে তারা ভিন্ন কৌশলে বালি উত্তোলন করছে। ভোর ৩ টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত ইজারা বাহিভূত যায়গা থেকে বালি উত্তোলন করে। আর দিনের বেলা তারা ড্রেজার বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকে। জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত কুমার চন্দ্র জানালেন, তিনি অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছিলেন। তারা বলেছে, ইজরাকৃত যায়গা থেকে বালি তুলছে।
অবস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ একই ইজারাদারের লোকজন জকিগঞ্জের তীরে অবৈধ বালি উত্তোলন করলে কানাইঘাটে সুরমা নদী তীব্র ভাঙ্গনে মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহদী হাসান শাকিল বলেন, জকিগঞ্জে বালি উত্তোলনের বিষয়টি ঐ উপজেলার এখতিয়ারধীন। তিনি বিষয়টি দেখবেন। কানাইঘাট উপজেলার বাণীগ্রাম ইউপির বড়দেশ দক্ষিণ ও কায়স্থগ্রামের বাসিন্দারা জানান, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর দুই তীরে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ গুলোও বিলীন হওয়ার পথে। ১৬.৭-২০২৬