৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
নবীগঞ্জে গৃহবধুকে গণধর্ষনের অভিযোগ, ধর্ষিতার বক্তব্যে ধুম্রজাল সৃষ্টি
জাবেদ ইকবাল তালুকদার, নবীগঞ্জ:: হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এলাকায় চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। গণধর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে ওই গৃহবধু পুলিশের কাছে অসামঞ্জস্য বক্তব্য দেয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষিত গৃহবধু উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের কালাভরপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী (২৫)।
ওই গৃহবধু জানান, রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল অনুমান ৫ টায় সে শেরপুর বাজার থেকে সিএনজি (অটোরিক্সা) যোগে মজলিসপুর তার এক আত্মীয় বাড়ীতে যাবার পথে নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে না দিয়ে তাকে হাত পা, মুখ বেঁধে রাতভর বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায় সিএনজি চালক ও তার সহযোগীরা। পরে গভীর রাতে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আরো ৬/৭ জন মিলে সংঘবদ্ধ ভাবে তাকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পরে সকালে আবার সিএনজি যোগে তাকে তার আত্মীয়ের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর স্থানীয় কিছু মাতব্বর ও জনপ্রতিনিধিরা আপোষে বিষয়টি রফা দফার চেষ্টা চালান বলেও জানান ওই গৃহবধু। এছাড়াও ওই গৃহবধু ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে অসামঞ্জস্য বক্তব্য দেয়ায় সঠিক ঘটনা উদঘাটনে বিভ্রান্তিতে পড়েছে পুলিশ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফেসবুক পোষ্ট নজরে আসলে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্কেলের এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরী ও নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই গৃহবধু একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। একবার বলছেন ৭ জন লোক তাকে ধর্ষণ করেছে, কখনও বলছেন ৩ জন। আবার কখনও তিনি ১৪ থেকে ২১ জন তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানান। তার অসামঞ্জস্য বক্তব্যের কারণে মুল ঘটনাটি উদঘাটন করতে বিলম্ভ হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমরা গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষন করে মুল ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন- ওই গৃহবধুর ভিন্নধর্মী বক্তব্যের কারনে আমাদেরকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা নিভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করছি তার সাথে ঘটনাস্থলে কথা হয়েছে এবং তাকে থানায় নিয়ে এসে তার সাথে কথা হয়েছে। সে একেক বার একেক বক্তব্য দিচ্ছে। তবে মুল ঘটনা উদঘাটনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমান হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনা মিথ্যা প্রমাণিত হলে পুলিশকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলার কারনে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি আজিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাবস্থা গ্রহণ করার মত বিধি আছে তবে এখনও কিছু বলা যাচ্ছেনা। তদন্তের পর ঘটনা মিথ্যা প্রমাণিত হলে ব্যাবস্থা নেয়া হতে পারে।
এ ব্যাপারে আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন বলেন, গৃহবধুর অসামঞ্জস্য বক্তব্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে ধ্রুমজালের মধ্যে পড়েছি।
এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের কালাভরপুর গ্রামের জনৈক গৃহবধু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সৈয়দপুর বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। কয়েক দিন আগে তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন। কিন্তু ওই গৃহবধুর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে এলাকার অনেকেই মনে করছেন ওই গৃহবধু ধর্ষণের নামে নাটক সাজিয়ে যখন মনে যা আসে বানিয়ে বানিয়ে বলছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ওই গৃহবধু সত্যিই ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে পরের দিন ওই ব্যক্তিরা কিভাবে তাকে তার আত্মীয় বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে? সে কি আসলেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে, না কি তার স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এই নাটক সাজিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এ নিয়ে ওই এলাকায় রসালো আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এলাকাবাসী সুত্রে আরো জানাযায়, আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনটি ফাঁকা থাকায় অনেক দিন যাবত রাতের বেলায় বিভিন্ন লোকজনের আগাগোনা লক্ষ্য করেছেন তারা। কিন্তু কি কারণে রাত-বিরাতে ওই জায়গা লোকেদের আনাগোনা হয় তা সঠিক ভাবে কেউ আঁচ করতে না পারলেও দীর্ঘদিন যাবত ওই ভবনটি পরিত্যক্ত থাকার কারণে সেখানে যে কোন ধরণের অবৈধ কার্যকালাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করছেন তারা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই গৃহবধু ও তার স্বামীকে নবীগঞ্জ থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।