বুধবার, মে ২৭, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
৫ জুন ২০ ২৩
৯:০ ৭ অপরাহ্ণ

অনাবৃষ্টি আর ক্যাটারপিলারের আক্রমণে চা বাগান গুলি হুমকির মুখে, উৎপাদন ব্যাহত

অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অধিক খড়ার কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে পাতা। তার উপর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসাবে আবির্ভাব ঘটেছে ক্যাটারপিলার নামক একধরনের পতঙ্গ।

যারা মূহুর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিচ্ছে চা গাছের পাতসহ নতুন কুঁড়ি। পতঙ্গ গুলো খুব দ্রুতগতিতে বংশ বিস্তার করছে বলে জানা গেছে।

অনাবৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সবকটি বাগানে চা গাছের কুঁড়ি ফ্যাকাশে হয়ে পাতা ঝরে পড়ছে। কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই চা-বাগান চলমান তাপপ্রবাহ ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ও ক্যাটারপিলার নামের একধনের পতঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে চা বাগানের বিভিন্ন সেকশনে।

কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় দেড়শো একরের মত চা গাছ বিনষ্ট করে ফেলেছে এই পতঙ্গের দল। এরা সুযোগ বুঝে মানুষকেও কামড় দিচ্ছে। এই কারণে নারী ও পুরুষ চা শ্র্রমিকদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।

এসময়ে প্রতিদিন চা বাগান গুলিতে ২০/ ২৫ হাজার কেজি চা পাতা চয়ন করা যেত, সেই জায়গায় বর্তমানে ৩/৪ হাজার কেজি চা পাতা চয়ন করা হচ্ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছর কম ফলনের আশঙ্কা করছেন চা বাগানের সংশ্লিরা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েকদিন ধরেই মৌলভীবাজার জেলার তাপমাত্রার পারদ ৩০ থেকে ৩৯ ডিগ্রির মধ্যে অবস্থান করছে। ধলই চা বাগানের চা শ্রমিক ইন্দ্রজিৎ গড়,চিনু,নির্মল পাশী,অমরিত, লিটন,ছোটন কুর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়,তাদের বয়সে কখনও এমন খড়া বা এ ধরনের পোঁকা এর আগে কখনও দেখেননি।

এরা একরের পর একর চা পাতা খেয়ে ফেলছে মূহুর্র্তের মধ্যে। আবার এই পোঁকা মানুষকে কামড় দেয় শরীরে লাগলে চুলকায়। অনেকে চা পাতা তুলতেও ভয় পাচ্ছেন,যার কারণে পাতা চয়ন কমে গেছে একদম। আমাদের ঠিকমত হাজিরাও উটছে না।

ধলই চা বাগানের সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক বদরুল ইসলাম বলেন, 'প্রচন্ড তাপে কুড়ি ফোঁটার আগেই চা গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বাগানে ক্যাটারপিলার নামক একধরনের কীটপতঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে। কীটপতঙ্গ চা পাতা খেয়ে ফেলছে। এতে পাতাগুলো মরে যাওয়ার আগে শুকিয়ে যেতে শুরু থাকে।' এখন পর্যন্ত আমাদের কয়েকটি সেকশনের প্রায় দেড়শো একরের মত চা গাছ বিনষ্ট করে ফেলেছে।

এদের উপদ্রব বেড়ে বিভিন্ন সেকশনগুলো আক্রমণ করছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও এদের ধ্বংস করা যাচ্ছেনা। দীর্ঘসময় এমন অবস্থা চলতে থাকলে চা শিল্প ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। তিনি আরও বলেন, গত বছর এ সময়ে ৭০ শতাংশ চা গাছে কচি পাতা এসেছিল।

এ বছর এর পরিমাণ ২০ শতাংশের কম। স্থানীয় চা শিল্প পুরোপুরি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। চা বাগানের জন্য জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫-৭ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। এবার বছর তা হয়নি।

এদিকে এ বছর ২ লাখ ৮৫ হাজার একরের বেশি জমি থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ কোটি ২০ হাজার কিলোগ্রাম। শ্রীমঙ্গল উপজেলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, এত তাপমাত্রা মানুষ ও গাছপালা উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বর্তমানে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা চা গাছের সহ্য সীমার থেকে অনেক বেশি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ