১০ :৪১ অপরাহ্ণ
নিম্নআয়ের মানুষের শীত নিবারণে খড়খুটোই ভরসা: বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ
আসহাবুজ্জামানশাওন, কমলগঞ্জ:: চলতি মৌসুমে ডিসেম্বর মাস থেকে শীতের তীব্রতা ক্রমে বাড়তে শুরু করেছে। শীতের তীব্রতার শুরুতেই মৌলভীবাজারের চা বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যূষিত কমলগঞ্জে জনজীবনে বিপর্যয় নেমেছে। চা শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি, জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাটবাজারে ও ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দু’দিন ধরে রোদের তাপ হ্রাস পাওয়ায় শীত বাড়তে শুরু করেছে। গত দু দিন সূর্যের আলো তেমন একটা দেখা মেলেনি। ফলে বনাঞ্চল ও চা বাগান এলাকা সমৃদ্ধ থাকার কারণে কমলগঞ্জ উপজেলায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে ঠান্ডা বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কাজকর্মে স্তবিরতা দেখা দিয়েছে। কমেছে দিনমজুরদের আয় রোজগার। ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাব করছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। হাসপাতাল ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীর ভিড় বাড়ছে। আক্রান্তদের মাঝে শিশু ও বয়স্করাই বেশী। ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় হাটবাজারে গরম কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কাপড় কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাপড় কিনতে চাহিদামতো দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্মমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।
শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, ঠান্ডায় চা বাগানে শ্রমিক বস্তি সমুহে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পুষ্টিমাণের খাবারের অভাব, পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকেই সর্দি, জ্বরে ভূগছেন। চা বাগানের শ্রমিকরা শীত নিবারনে খড়খুটো জ্বালিয়ে সময় পার করছেন।
অটোরিক্সা চালক আব্দুল খালিক, দিনমজুর অনুরোধ রবিদাস বলেন, শীত বেড়ে গেছে। আর শীত বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন ঘর হতে কম বের হচ্ছেন। ফলে আয় রোজগার কমে গেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া ও ভানুগাছ বাজারের পল্লী চিকিৎসক নুরুল ইসলাম জানান, শীত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারে এসব রোগীই বেশি আসছেন।