শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
১৫ অক্টোবর ২০ ২৬
৭:০ ৩ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে একটি দুটি নয় সড়কের পাশ থেকে ১৪টি বিশাল আকৃতির গাছ কে'টে নিলো চো'রচক্র

কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কের পাশ থেকে ইউক্যালিপটার্স ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃহদাকার ১৪টি গাছ কে'টে নিয়ে গেছে চু'র চক্র। বুধবার দিবাগত রাতে সড়কের ঘোরামারা এলাকায় গাছগুলো কেটে খন্ডাংশ করে পাচার করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় সাড়ে তিন,চার ও পাঁচ ফুট বেড়ের ইউক্যালিপটার্স ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃহদাকার ১৪টি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে।

মূল্যবান গাছগুলো কেটে নেওয়ার পর কালের সাক্ষী হিসাবে গাছের মুতা পরিত্যক্ত ভাবে পড়ে রয়েছে। কমলগঞ্জের ব্যস্ততম আদমপুর সড়কে দু'পাশ থেকে গাছগুলো ইলেকট্রিক চেইন করাত দিয়ে দ্রুততার সহিত কেটে গাড়িযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারনা। তবে বনবিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে একসাথে এতোগুলো গাছ কেটে নিয়ে গাড়িযোগে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গাছগুলোর বাজার মূল্য সাত থেকে আট লক্ষ টাকা হবে বলে ধারনা করছেন স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম,অমিত সিংহ,রামাকান্ত সিংহ বলেন, এই সড়কের অদূরেই রাজকান্দি বনরেঞ্জ এর কার্যালয় এবং রাস্তায় চেকপোস্ট। তাছাড়া পুলিশি টহল থাকার পরও ১৪টি এত বড় আকৃতির গাছ কেটে নিয়ে যেতে কমপক্ষে তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লেগেছে। সবগুলো গাছ একসাথে কেটে সাবাড় করে দিলেও প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বন ও সামাজিক বনের গাছগাছালি নিরাপদ থাকবে না।

এ ব্যাপারে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, একসাথে মেইন সড়ক থেকে এতোগুলো গাছ চুরি। এর আগে কেউ কখনও এরকম চুরি করার সাহস করেনি এটাই প্রথম ঘটনা। আমার মনে হয় এটি একটি বড় সিন্ডিকেট চক্রের কাজ। আমি খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বনবিভাগ, থানা পুলিশ ও ইউএনও সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছি। তদন্ত পূর্বক গাছ চোরদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা তানভির হোসেন বলেন, এলজিইডি সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরির বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা অনুসন্ধান করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম জানান, আমরা খবর পেয়ে সরজমিন গিয়ে পরিদর্শন করেছি।

এ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কমলগঞ্জ থানার ওসি সহ এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ তালুকদার বলেন, গাছ চুরির বিষয়টি যথাসময়েই অবগত হয়েছি এবং এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করেছি। থানার ওসি সাহেব ছুটিতে রয়েছেন। তিনি আসার পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ