১১:২১ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জ প্রবাসী ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও নগদ অর্থসহায়তা
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে কিংবা স্বজনদের একটু ভালো রাখার আশায় হাজারো মাইল দূরে পাড়ি জমান তাঁরা। প্রখর রোদ, হাড়কাঁপানো শীত, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে উপার্জন করেন অর্থ।
সেই কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সচল রাখেন অর্থনীতির চাকা, বদলে দেন পরিবারের জীবনমান, ভূমিকা রাখেন নিজ এলাকার উন্নয়নেও।
তাঁরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল চুরি, হয়রানি ও নানা ভোগান্তির অভিযোগ তাঁদের সেই ত্যাগের বিপরীতে এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসীদের অবদান ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন, তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং জকিগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি সামনে রেখে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে জকিগঞ্জ প্রবাসী ঐক্য পরিষদ। অনুষ্ঠানে পাঁচজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তির মধ্যে নগদ অর্থসহায়তাও দেওয়া হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৭টায় জকিগঞ্জ প্রবাসী ঐক্য পরিষদের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সহসভাপতি আলী আহসান। সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদ শিবলুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ। ‘দল ধর্ম যার যার, জকিগঞ্জ সবার’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জকিগঞ্জ উপজেলার প্রবাসীদের সমন্বয়ে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জকিগঞ্জ প্রবাসী ঐক্য পরিষদ।
একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন জকিগঞ্জ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি শুরু থেকেই এলাকার উন্নয়ন, প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে জকিগঞ্জের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে কাজ করে যাচ্ছে। পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মঈন উদ্দিন মনইয়ের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা নূরুল ইসলাম। সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক মাস আগে জকিগঞ্জ স্বাধীন হয়েছিল। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে জকিগঞ্জের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবৈষম্যের শিকার এ জনপদের মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁরা বলেন, জকিগঞ্জের মাটির নিচ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুবিধা পাচ্ছেন না। জকিগঞ্জবাসীকে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে সিলেট জেলা সদর থেকে ৯১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে ডিগ্রি কোর্স চালু হলেও এখনো অনার্স কোর্স চালু হয়নি। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দ্রুত এ কলেজে অনার্স কোর্স চালুর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা। জকিগঞ্জের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না। তাঁদের পাঠানো অর্থে অসংখ্য পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে, গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, শিক্ষার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। প্রবাসীদের শ্রম, আত্মত্যাগ ও সহযোগিতা জকিগঞ্জের অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি। তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীদের নিজ দেশে ফিরে সম্মান ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা। কিন্তু বিমানবন্দরে লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল চুরি, হয়রানি ও নানা ভোগান্তির অভিযোগ তাঁদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করছে। প্রবাসীদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব হয়রানি বন্ধ, বিমানবন্দরে লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। অনুষ্ঠানে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তির হাতে নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের ঐক্য ও সহযোগিতা কেবল এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়, বিপদগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আব্দুশ শহীদ শাকির, প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সহদপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল মামুন সুমেল ও ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাফী প্রমুখ। কেক কাটা, আলোচনা সভা ও অসহায় মানুষের মধ্যে অর্থসহায়তা প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।