৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদের সাথে নিহত ইমানি
জালালপুরে ছাত্রলীগ নেতা ইমানী নিহত শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা
দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন ইমানী নিহত হয়েছেন। আজ ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে জালালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমানী জালালপুর ইউনিয়নের মিরারগাঁও গ্রামের আজমল আলীর পুত্র।
এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় নিহত ইমানীর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেইসাথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন চলাকালে বালাগঞ্জের আদিত্যপুরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী কর্তৃক জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে ভোট প্রদানের প্রতিবাদ করেন বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেল ও তার কর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সোহেলের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অর্তকিতভাবে হামলা চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সুহেল মারা যান। সায়েম আহম সুহেল মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ঐদিনই তাৎক্ষণিক দক্ষিণ সুরমার জালালপুর বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে পরদিন অর্থাৎ গতকাল ৩১ ডিসেম্বর জালালপুরে সায়েম আহমদ সুহেল নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও আমজনতার উদ্যোগে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়।
এই কর্মসূচীর সংবাদ পেয়ে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ,যুবলীগও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও পাল্টা প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। নির্ধারিত কর্মসূচী পালন করতে গতকাল দুপুরে জালালপুর বাজারে জড়ো হন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে জালালপুর ইউনিয়ন অফিস প্রাঙ্গনে জড়ো হন আওয়ামীলীগ,যুবলীগও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে মানববন্ধন চলাকালে আওয়ামীলীগ,যুবলীগও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালান।
এতে উভয় পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন ইমানী নিহত হন। পরে পুলিশ এসে লাটিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়ে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ ইমানীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠায়। আলাপকালে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সায়েম আহমদ সুহেলের বদলা নিতে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইমানীকে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আইণশৃঙ্খলা বাহিণীর প্রতি অনুরোধ জানান। অপরদিকে জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম জয়দু বলেন, ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সুহেল মারা যাওয়ার ঘটনায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করছিলাম। হঠাৎ করেই আওয়ামীলীগ,যুবলীগও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়।
এতে তাদের অস্ত্রের আঘাতেই আলী হোসেন ইমানী নিহত হয়েছে। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা আলী হোসেন ইমানী নিহতের ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্যতম আসামীরা হলেন, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম জয়দু, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল আহমদ, জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রুহুল আমিন, সহসভাপতি রায়হানুল হক, সহ সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান সাজু, আখলাকুল আম্বিয়া বাতিন, লুৎফুর রহমান, জিল্লুর রহমান জিলন, সুন্দর আলী, আব্দুল হক, তখই মেম্বার, মোল্লা মেম্বার, সিরাজ মিয়া, আবদাল আহমদ, শামসুর রহমান সুজা প্রমুখ। মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা আলী হোসেন ইমানী নিহতের ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা সকল আসামীদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।