সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০ ২৬
জাবেদ তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) ::
৪ জুন ২০ ২১
২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা প্রদান
নবীগঞ্জের নোয়াগাঁওয়ে তান্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ৮: মূল হোতা নুর উদ্দিন এখনও অধরা

নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে ১৫টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নারকীয় তান্ডবের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়নের বহিস্কৃত চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও অধরা রয়েছেন এই তান্ডবের মুল হুতা সাতাইহাল গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন (বীর প্রতিক)।


স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পানিউমদা ইউনিয়নের ভাটি অঞ্চল খ্যাত নোয়াগাওঁ রুক্ষারপাড় হাওরে গজনাইপুর ইউপির সাতাইহাল গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন আহমদের মালিকানাধীন একটি মৎস্য খামার রয়েছে । গত ২৬ মে রাতে উক্ত খামারে তার পাহাড়াদার আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী জারু বেগমকে একদল দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত স্বামী স্ত্রী সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে মামলা করেন মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে সাতাইহাল গ্রামসহ ৬ মৌজার লোকজনদের ডাকেন তিনি। ওই বৈঠকে লোকদের ক্ষেপিয়ে তোলেন। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় রবিবার সকালে নোয়াগাওঁ রুক্ষারপাড় হাওর এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘরে হামলা করা হবে। রবিবার ৬ মৌজার কেউ বাহিরে যেতে পারবে না। বাহির হলে তাদেরকে জরিমানা দিতে হবে। বৈঠকের এমন সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরগনায়। খবর পৌছে নোয়াগাওঁ রুক্ষারপাড় হাওর পাড়ের মানুষজনের কাছে। বিষয়টি পানিউমদা ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানান। ফলে গত রোববার সকালে হায়রাবাদ এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে সাতাইহাল এলাকার নেতৃস্থানীয়দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলার এক পর্যায়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাতাইহাল গ্রামসহ ৬ মৌজার কয়েক হাজার লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের রুক্ষারপাড়ে অবস্থিত বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করে তান্ডব চালায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদের পুত্র জামাল হোসেন বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন আহমদসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার মুল নায়ক বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্থরা অনতিবিলম্বে ঘটনার মুল নায়ক নুর উদ্দিন আহমদকে গ্রেফতারের দাবী জানান। এ ছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি করছে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১ বান করে ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের নির্দেশনায় সহায়তা পৌঁছে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দিন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যাহ (বিপিএম-পিপিএম), উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহŸায়ক গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। নবীগঞ্জে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বিষয়টি শালিসে নিঃস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহনের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এদিকে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন মানবেতর জীবন যাবন করছেন বলে জানাগেছে। কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ