মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ::
২০ জানুয়ারী ২০ ২৫
৮:১৫ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে এক বখাটের কান্ড: গ্রাম্য শালীসের পূর্বেই স্কুল ছাত্রীকে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরন চেষ্টা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুল পড়ুয়া তরুণী (চাচাতো বোন) কে উতক্ত করার অপরাধে গ্রাম্য শালীসের পূর্ব দিন বাড়ী থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরন করতে এসে পরিবারের সদস্যদের প্রতিরোধে গুরুত্বর আহত হয়েছে বখাটে আতাউর রহমান (২৭)।

আহত বখাটে আতাউর এখন সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ তরুনীর পিতা হুমায়ুন কে ডেকে এনে বখাটে কে আহত করার অপরাধে আটক করে মৌলভীবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জানুয়ারী সকাল ১০টায়। উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের স্কুল ছাত্রীর বাবা হুমায়ুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে রিয়া আক্তার কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী।

একই গ্রামের হুমায়ুনের ভাই হারুন মিয়ার ছেলে রাজ মিন্ত্রিরী আতাউর রহমান (৩০) (পূর্বে ২টি বিয়ে করেছে এবং তাদেরকে নির্যাতন করে তালাক দিয়েছে) দীর্ঘ দিন ধরে তার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রেম নিবেদন করে উত্তক্ত করত। মেয়েটি বিবাহিত চাচাতো ভাইয়ের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করে। মেয়েকে উতক্ত করার বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমলগঞ্জ থানায় লিখিত ভাবে অবহিত করে।

এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে ২০ জানুয়ারী সকালে এলাকায় শালীস বৈঠক বসার সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে বখাটে আতাউর ১৯ জানুয়ারী সকালের দিকে মোটর সাইকেল যোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার অপর সঙ্গিদেরকে সাথে নিয়ে তরুনীকে অপহরন করতে যায় হুমায়ুনের বাড়ীতে। এসময় হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন আতাউর ও তার সঙ্গিদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ করে। তাদের প্রতিরোধে আতাউরের মোটর সাইকেল ভাংচুর করে ও আতাউরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুত্বর আহত করে।

হামলায় আতাউর গুরুত্ব আহত হলে তার আত্নীয়-স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করে। স্কুল ছাত্রীর মা সুলতানা বলেন, ঘটনার রাতে তার স্বামী মুন্সিবাজার অবস্থান করার সময় কমলগঞ্জ থানা থেকে তাকে ফোন করে বিষয়টি সর্ম্পকে জানার জন্য ডেকে নিয়ে আতাউরের উপর হামলার কারনে আটক করে পরদিন মৌলভীবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

অপরদিকে সোমবার সাংবাদিকরা সরজমিনে পরিদর্শন করতে গেলে এলাকার দিলারা বেগম,নানু মিয়া,লতিফ মিয়া ও লাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আতাউর পেশায় একজন রাজ মিন্ত্রিরী। আগে আওয়ামী লীগে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। সে স্থাণীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির লাঠিয়াল হিসাবে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ কথা বলতে পারেনা। তারা আরো বলেন, সে আগে বৃন্দাবনপুর ও রামেশ্বরপুর গ্রামে ২টি বিয়ে করেছিল। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়।

এছাড়া তার অত্যাচারে মইনউদ্দিনের পরিবারে বাড়ী-ঘর ফেলে রেখে বর্তমানে গিয়াসনগর এলাকায় বসবাস করছে। তারা আরো বলেন,গত বছর শালীস চলাকালীন সময় তার বিরুদ্ধে কথা বলায় শালীসান ফটিক মিয়াকে বৈঠক স্থলেই চাকু দিয়ে আঘাত করে আহত করে। বর্তমানে সে বিএনপি নেতাদের আশ্রয়ে চলে গেছে। তাদের প্রশয়ে আবারো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে।

হুমায়ুনের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে স্কুলে যাওয়া- আসার সময় বিরক্ত করার অভিযোগে ২০ জানুয়ারী এলাকায় শালীস বৈঠক করার কথা ছিল,কিন্তুু তার আগেই সন্ত্রাসী নিয়ে তার মেয়েকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করলে হুমায়ুন ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বুলবুল আহমেদ বলেন, আতাউর একজন এলাকার দূস্কৃতি প্রকৃতির লোক তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিচার শালীস হয়েছে।

পূর্বেও সে তার মামাতো বোনের মেয়ের সাথেও নানান অত্যাচার করে। তারা বিচার না পাওয়ায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এদিকে ভিকটিম আতাউর ও তার আত্নীয় স্বজনরা সিলেট হাসপাতালে অবস্থান করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত শামীম আকঞ্জী বলেন, আহত হওয়া আতাউর এর সাথে তার চাচা হুমায়ের পূর্বে জায়গা জমি সক্রান্ত বিরোধে আহত আতাউর কমলগঞ্জ থানায় ১০ জন কে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে হুমায়ন নামের একজন কে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ