৭:৫৭ অপরাহ্ণ
জগন্নাথপুরে হাওরের তাজা ঘাস বিক্রির ধুম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওর থেকে কেটে আনা গো-খাদ্য হিসেবে তাজা ঘাস বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো মাঘ মাসের শেষ দিক থেকে চলতি ফাল্গুন মাসে হাওরে তাজা ঘাস কাটা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ ঘাস বাজার এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। পালিত গবাদিপশুর জন্য তাজা ঘাস কিনতে ক্রেতারাও অপেক্ষা করে বসে থাকেন। কখন ঘাসিরা ঘাস নিয়ে বাজারে আসবেন।
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওর সহ অন্যান্য হাওরে ঘাস কাটার প্রতিযোগিতা চলে। জমির আইলে ঘাস ভর্তি থাকে। গবাদিপশুর জন্য পছন্দের খাবার এসব ঘাস কাটতে স্থানীয় কৃষকরা হাওরে যান। দুরদুরান্ত থেকে ছোট-বড় গাড়িযোগে অন্যান্য কৃষকরাও আসেন। তাদের সাথে এক শ্রেণির মৌসুমী ঘাস ব্যবসায়ীরা ঘাস কাটার প্রতিযোগিতা করেন। তারা হাওর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন।
প্রতিদিন শুধু ঘাস বিক্রি করে তারা জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা রোজগার করেন। এতে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার দেখা যায়, হাটে এক ঘাসির কাছ থেকে ক্রেতা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ঘাস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন ইজিবাইক চালক ঘাস ব্যবসায়ীরা বলেন, ঘাস ব্যবসায় তারা লাভবান হচ্ছেন। মানুষ যাত্রীদের যাতায়াত করে সারা দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা রোজগার হয়।
ঘাস বিক্রি করলে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা রোজগার করা যায়। তাই তারা মৌসুমী ঘাস ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রতি বারে হাওর থেকে তারা কমপক্ষে ৫ বস্তা ঘাস আনতে পারেন। প্রতি বস্তা ঘাস বিক্রি হয় কমপক্ষে ২০০ টাকায়। অল্প পরিশ্রম করলেও দিনে দুই বার সকাল-বিকাল ঘাস বিক্রি করতে পারেন। যারা বেশি পরিশ্রম করেন তারা দিনে তিন বার ঘাস বিক্রি করতে পারেন।
প্রতি বারে ১ হাজার টাকা রোজগার হলে দিনে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা রোজগার হয়। এদিকে-হাওর থেকে কেটে আনা তাজা ঘাস কিনতে গবাদিপশুর মালিকগণ হাট-বাজার পয়েন্টে বসে অপেক্ষা করেন। ঘাস আসামাত্র ক্রেতাদের মধ্যেও ঘাস কেনা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
সবার পছন্দের তাজা ঘাসের কদর বেশি হওয়ায় এমন প্রতিযোগিতা হয় বলে ক্রেতা ও বিক্রেতা সহ স্থানীয় কৃষকরা জানান। তবে ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে জানান, গবাদিপশুর জন্য সবচেয়ে পছন্দের খাবার হচ্ছে এসব তাজা ঘাস। বিশেষ করে গাভীর জন্য। এসব ঘাস খেলে গাভী বেশি দুধ দেয়। যে কারণে তাজা ঘাসের চাহিদা বেশি।
সময়ের অভাবে হাওরে গিয়ে ঘাস সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। তাই ঘাস কিনতে হয়। যদিও সচেতন মহলের অনেকে জানান, এটি একটি ইতিবাচক দিক। ঘাস কেনাবেচায় উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। এতে এলাকার বেকার মানুষের মৌসুমী কর্মসংস্থান হয়েছে। তাজা ঘাস খাওয়ালে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যারা সময়ের অভাবে নিজে হাওর থেকে ঘাস সংগ্রহ করতে না পারেন, তাদের তো ঘাস কিনতেই হবে। আবার ঘাস বিক্রি করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে-জমির আইল থেকে আগাছা কেটে আনায় বোরো ধানেরও উপকার হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঘাস ব্যবসা খুবই ভালো।