বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০ ২৬
কুলাউড়া প্রতিনিধি::
১২ জুলাই ২০ ২১
৫:০ ৬ অপরাহ্ণ

কুলাউড়া পৌর শহরে অপরিকল্পিত দেয়াল নির্মান: চরম দূর্ভোগে এলাকাবাসী

পৌর শহরের ব্যস্থতম ৫নং ওয়ার্ডের উছলাপাড়া এলাকায় স্থানীদের অপরিকল্পিত নির্মিত বাসার দেয়াল নির্মাণের কারনে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছেন রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বাসিন্দারা। এমনিতেই সরু রাস্তা তার উপর রাস্তা ঘেষে দেওয়াল নির্মাণ করায় একটি রিক্সা যাতায়াত করতে হিমশিম খেতে হয় চালককে।

ব্যস্ততম মেইন সড়ক বাদ দিয়ে বাইপাস হিসেবে এ সড়ক দিয়ে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সহজে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম খান ওরফে ডলার পৌর কতৃকপক্ষের অনুমতি না নিয়ে রাস্তার উপর দেওয়াল নির্মাণ করায় দারুন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে স্থানীয় জনসাধারণ চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের উছলাপাড়া টু মাগুরা সড়ক। এ এলাকায় প্রায় শতাধিক বাসার বাসিন্দাদের একমাত্র প্রবেশ পথ এই সড়ক। এ রাস্তা ব্যবহার করে সাদেকপুর, বেহালা, মনসুর, মাগুরা এলাকার বাসিন্দা ও কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নবীন চন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কুলাউড়া সরকারি কলেজ,ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ এবং বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন।

এছাড়াও শহরের অন্যতম বাইপাস সড়ক হিসেবে এ রাস্তা ব্যবহার হচ্ছে দীর্ঘ দিন থেকে। এর আগে কিছু স্থানীয়রা অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে দেওয়াল নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম খান এ সড়কের পাশ দিয়ে গত মেয়রের মেয়াদকালে তৈরি করেছেন অবৈধ স্থাপনা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ।

এতে সড়কে জমাট বাধা ময়লার পানির চরম দুর্গন্ধ অতিষ্ট স্থানীয় চলাচলকারী বাসিন্দারা। বর্তমানে অল্প বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অল্প বৃষ্টি হলেই পানিতে থৈ থৈ করে। এ নিয়ে জহিরুল ইসলাম খানের অবৈধ স্থাপনা কেন অপসারণ করা হবেনা তাঁর কাছে ব্যাখা চেয়েছে কুলাউড়া পৌরসভা কতৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে মেয়র কিংবা কাউন্সিলর এখানকার উন্নয়নে কার্যত ভূমিকা রাখতে পারছেন না। দু’একজনের এমন আচরনে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকার বৃহৎ স্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিলে স্থানীয়রা সহযোগিতা করবে। এমনকি সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনে বাসার বাউয়ান্ডারি দেয়াল ভেঙ্গে দিতে তাঁরা রাজি। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষের জোড়ালো ভূমিকার সময়ের দাবী। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী, সাইফুল,রবি জানান, অল্প বৃষ্টিতে যেমন পানি জমে সড়ক ও বাসাবাড়ির উঠোনে পানি উঠে যায়। স্থানীয়দের কেউ অসুস্থ হলে সরু রাস্তার কারণে সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না এম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ বড় কোন যানবাহন।

রিকশা করে এই এলাকা পাড়ি দিয়ে প্রধান সড়কে আসতে হয়। রোগী ও স্বজনদের পোহাতে হয় মাত্রাতিরিক্ত দুর্ভোগ। এছাড়াও কারও বাসায় আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। তাই রাস্তা প্রসস্থ না করা হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কুলাউড়া পৌরসভা ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুর রশীদ সুমন বলেন, আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র ৫ মাস হয়েছে।

এর আগে যারা ছিলেন কেউ কার্যত এবিষয়ে ভূমিকা রাখেননি। বর্তমান মেয়াদে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সহিত কাজ করবো। আমার বিশ^াস এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক প্রসস্থকরণের জন্য যে পদক্ষেপ নেয়ার দরকার তা পৌর মেয়র সহ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। কুলাউড়া পৌরসভার প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় জহিরুল ইসলাম ওরফে ডলারের কাছে আমরা লিখিত ব্যাখা চেয়েছি। পৌর কর্তপক্ষ জলাবদ্ধতার একটা স্থায়ী সমাধান চায়।

এতে শহরমূখী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হবে। পৌরসভার অনুমোদন না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্বীকার করে অভিযোগের ব্যাপারে জহিরুল ইসলাম খান ওরফে ডলার বলেন, পৌরসভার নোটিশ পেয়েছি। পৌরসভার কোন এখতিয়ার নেই এই সড়কটি নিয়ে কোন কথা বলা। এই সড়কের রেকর্ড আমাদের নামে এখনো আছে।

এমনকি এখানকার বাসিন্দা কারও অধিকার নেই এই সড়ক ও ড্রেন নিয়ে কথা বলার। যারা কথা বলছে তারা তাদের বাসা ভেঙ্গে ড্রেনের ব্যবস্থা করুক। কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো অবকাঠামোর কারনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবং কেউ যদি অবৈধভাবে শহরের রাস্তা ঘেষে কিছু নির্মাণ করে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেবো। এছাড়াও পৌর নাগরিকদের স্বার্থে সড়ক প্রসস্থ করতে গিয়ে যা করনীয় পৌর কতৃপক্ষ করবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ