৯:৫৬ অপরাহ্ণ
টিকার স্বল্পতা ও রেজিষ্ট্রেশন জটিলতায় অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন
কমলগঞ্জে ১৮টি কেন্দ্রে ৭,২০০ টিকা প্রদান
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৯টি ও পৌরসভার ৯টি টিকা দান কেন্দ্র মিলিয়ে ১৮ টি টিকা দান কেন্দ্রে একযুগে ৭ হাজার ২ জন মানুষকে গণ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে। দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন টিকা কে›ন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
সরেজমিনে টিকা প্রদান কেন্দ্র সমুহ পরিদর্শন কালে দেখা যায়, টিকা নিতে মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। সকাল ৯ টার পূর্বেই কেন্দ্র গুলোতে করোনা টিকা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। এদিকে মাধবপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের ঢলকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে । পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন বালাই ছিলনা এদিন।
মানুষজন একজন আরেক জনের গাঁয়ের সাথে গাঁ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ভোটার কার্ড সাথে করে নিয়ে আসা ভাষানীগাঁও,শিমুলতলা,শিববাজার ও নোয়াগাঁও গ্রামের চন্দ্র কান্ত সিংহ,নন্দলার সিংহ,সাবিত্রি মালাকার,ফেরদৌস আহমেদ সহ অনেকেই জানান ,পূর্বে রেজিষ্ট্্েরশন করে এসে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়ানো আছি।
কিন্তুু টিকার সল্পতার কারনে টিকা গ্রহণ করতে পারিনি। অপরদিকে শাহিন আহমদ,রাজা মিয়া,রমজান আলী ,রমিজা বিবি, সার্ভারের জটিলতার কারণে রেজিষ্ট্রেশন করতে দেরি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেননি। রেজিস্ট্রেশন জটিলতা ও টিকার সংকটের কারণে টিকা না নিয়েই হতাশ হয়ে বাড়ীতে ফিরে যেতে দেখা যায়। এসময় তারা স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখে গেছে। দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন টিকা কে›ন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আশেকুল হক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো.জুয়েল আহমেদ, পৌর কাউন্সিলর দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন, সৈয়দ জামাল হোসেন,আনসার শোকরানা মান্না,জসিম উদ্দিন শাকিল,গোলাম মুগ্নি মুহিত,সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগন। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছেন পুলিশ, আনসার সদস্যগন। পরিদর্শনকালে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ হাসান বলেন, সবাইকে পর্যায়ক্রমে টিকা গ্রহণ করতে হবে।
টিকা গ্রহণ করে ২য় ডোজের জন্য অবশ্যই টিকার কার্ড সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত মাস্ক পরিধানের আহবান জানান তিনি। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম ভূইয়া জানান,কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ১৮শ জনকে ও ৯টি ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৪শ জনের মধ্যে টিকা দেয়া হয়েছে। আবারো ও সারা উপজেলায় ক্যাম্পিং হবে,তখন বাকি লোকেরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে হাসপাতালে টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।