মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
৮ এপ্রিল ২০ ২৫
১১:২৫ অপরাহ্ণ

অনাবৃষ্টির কারণে খরায় পুড়ছে চা গাছ: অনিশ্চয়তার মধ্যে বাগানগুলির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা!

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলায় দীর্ঘ দিন অনাবৃষ্টির কারণে খরায় পুড়ছে বিস্তীর্ণ চা বাগান। ক্ষতি হচ্ছে নতুন প্লান্টেশনের। তীব্র খরায় চা গাছগুলো ঝালছে যাচ্ছে ।


দেখা মিলছেনা নতুন কুঁড়ির,এরই মধ্যে মার্চের শুরু থেকে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে নতুন বছরে চা পাতা চয়ন শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই অনাবৃষ্টিতে নদনদী, ছড়া, জলাশয় ও খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় চাহিদামতো সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বছর চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শংঙ্কা করছেন চা বাগান সংশ্লিষ্টরা। বাগান ব্যবস্থাপকরা বলেছেন,মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির কারণে চাশিল্প প্রতিকূলতার মুখে পড়ায় কমে যাচ্ছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা।


খরা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক উৎস ছড়া, খাল বিল ও লেকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় পানি সেচ দেওয়া যাচ্ছে না।

খরায় নতুন সৃজিত চা-এর ৩০ শতাংশ চারাগাছ ও ১০ শতাংশ পুরাতন চা-গাছ পুড়ে গেছে। চা-বাগানের কিছু কিছু টিলায় নিয়মিত সেচ দিয়ে এ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২২টি চা-বাগান রয়েছে।

এর মধ্যে অনেক চায়ের টিলা শুকিয়ে যাচ্ছে। তাপদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে বাড়ছে না চা-গাছের কুঁড়ি। আসছে না নতুন পাতাও। গত তিন-চার মাসে কমলগঞ্জে হালকা কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চলমান দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে উপজেলার চা-বাগানের নতুন সৃজিত চা-গাছগুলো রোদে পুড়ে মারা যাচ্ছে।

অনাবৃষ্টির ফলে চা-বাগানের নার্সারিসমূহেও ফড়িংয়ের আক্রমণেরও শিকার হচ্ছে।শীত মৌসুমে চা-বাগানগুলোতে পুরাতন বৃদ্ধ চা-গাছ উপড়ে ফেলে সেখানে নতুন করে চারা-গাছ লাগানো হয়।

বাগানের প্লান্টেশন এলাকার চা-গাছ কাটিং (আগাছা ছেঁটে দেওয়া) হয়। এসব কাজের পর নিয়মিত সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্ত পানির অভাবে তা সম্ভব হচ্ছেনা। চা-বাগানের একটি সূত্র জানান, এ সময়ে সাধারণত চা-বাগান অঞ্চলে ১৫ সেন্টিমিন্টার বৃষ্টিপাত হয়।

তবে এ বছর এ সময়ে শুরু হয়েছে খরা। মাঘ মাসের বৃষ্টি চা-বাগানের জন্য খুবই উপকারী। মাঘে কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় চলমান অনাবৃষ্টিতে চা-বাগান প্লান্টেশন এলাকাধীন পানির উৎস খুঁজে তা আটকিয়ে কিছু অংশে সেচ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আর যেসব প্লান্টেশন এলাকায় সেচ দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানকার নতুন সৃজিত চারাগাছ মরে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানীর মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দীপন কুমার সিংহ জানান,গত বছরও অনাবৃষ্টি ও শ্রমীক ধর্মঘটের কারণে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি,এবছরও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ২০% পাতা উৎপাদন সম্ভব হয়নি, তীব্র খরায় চা গাছের চারা গুলো মরে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ধলাই ভ্যালির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শফিকুর রহমান (মুন্ন) জানান,চলতি বছর ন্যাশনাল টি কোম্পানী ৭০ লক্ষ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারনে ও তীব্র খরায় মৌসুমের শুরুতেই চা উৎপাদনে বড় ধাক্কা খেয়েছে এনটিসির প্রায় সকল চা বাগানগুলি।

অনেক বাগানে চা গাছ পুড়ে লাল হয়ে গেছে। সেচ দেওয়া কিছু বাগানে চা গাছে কুঁড়ি দেখা গেলেও তা তুলনামূলক খুবই কম।আমরা চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শংঙ্কিত। কাংঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও জেমস ফিনলে চা কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘২০২৪ সালে চা-বাগানে গ্রীষ্মকালে তীব্র খরা বয়ে গেছে।

তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ছিল। এই তাপমাত্রা চা-গাছের জন্য অনুকূল ছিল না। এছাড়া সার, সেচ, কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচের কম মূল্যে চা বিক্রির প্রভাবের কারণে চায়ের উৎপাদন কম হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ১০ ভাগ অবদান রাখা এনটিসি চা-বাগানগুলোতে বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে গত চা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জুড়ে শ্রমিক ধর্মঘট চলায় বাগানের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসব মিলিয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ