বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০ ২৬
রাজেশ ভৌমিক, (মৌলভীবাজার)::
২৪ মার্চ ২০ ২৬
৭:০ ০ অপরাহ্ণ

৪২ বছর পর মনসা দেবীর নৌকা পূজা, হাজারো ভক্তের মিলনমেলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামে দীর্ঘ ৪২ বছর পর শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা। বিরল এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় গ্রামটি পরিণত হয়েছে প্রাণের মিলনমেলায়।

গত ২২ মার্চ রাতে শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ২৩ মার্চ সোমবার মূল পূজার দিনে অনুষ্ঠিত হয় পূজা-অর্চনা, আরতি, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘটবে।

পূজায় অংশ নিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে হাজার হাজার সনাতনী ভক্ত ধীতেশ্বর গ্রামে সমবেত হন। তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আনন্দ-উৎসবে ভরপুর। সোমবার বিকেলে পূজা পরিদর্শনে আসেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাশ।

এছাড়া রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। পূজা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মহিষ বলি এবং বসে গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

আয়োজকরা জানান, কয়েক হাজার ভক্তের জন্য পর্যাপ্ত প্রসাদ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগত সকলের মধ্যে তা বিতরণ করা হচ্ছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, 'নৌকা পূজা আমি জীবনে এই প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনো দেখিনি। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। হাজার হাজার ভক্ত দেখে মনটা আরও আনন্দে ভরে উঠেছে।' বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ বলেন, '৪২ বছর পর নৌকা পূজার এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবিত করেছে। এটি ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।' পূজা উদযাপন কমিটি জানায়, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং শেষ দিনে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। শ্রীশ্রী মনসা দেবীর নৌকা পূজা বাংলার প্রাচীন লোকজ ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপের দেবী হিসেবে পূজিত মনসা দেবীর কাছে ভক্তরা কল্যাণ, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। নদীমাতৃক বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে এই পূজার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। নৌকার মাধ্যমে দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, ভালো ফসল এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ