৭:১১ অপরাহ্ণ
বর্ণাঢ্য ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সফল সমাপ্তি টানলেন সেগুপ্তা কানিজ আক্তার
শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষা পেশাটা হচ্ছে মহৎ পেশা। এই পেশার মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিয়ে তাদের জীবন গড়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা । শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, তাই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তেমনি এক জন শিক্ষক হচ্ছেন সেগুপ্তা কানিজ আক্তার।
সুদীর্ঘ ৪২ বছরের গৌরবময় ও সফল শিক্ষকতা পেশার সমাপ্তি টানলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেগুপ্তা কানিজ আক্তার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য চাকুরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবাও ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সেগুপ্তা কানিজ আক্তার ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।
পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে চক্রবর্তীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এরপর ভাদেশ্বর ১নং দক্ষিণভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার একজন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি সুনাম কুড়ান। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চান্দাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদর উপজেলার রাধারাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ একটানা দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি সিলেট শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'-এ প্রধান শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন।
২০১১ সালে এই স্কুলে যোগদান করেন তিনি। তাঁর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে অজস্র প্রাপ্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি রয়েছে-২০০১ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। ২০১৫ সালে সরকারিভাবে ভারতের রাজধানী দিল্লি ভ্রমণ করেন। ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়। ২০২৫ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তৈরি হয়েছে হাজারো কৃতি শিক্ষার্থী, যারা বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর অবসরজনিত কারণে সিলেটবাসী একজন প্রকৃত গুণী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে হারালো। বিদায় বেলায় অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই গুণী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অবসর জীবনের সার্বিক অনাবিল সুখ ও শান্তি কামনা করেছেন। শিক্ষক সেগুপ্তা কানিজ আক্তার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমার এই ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের আমার সন্তানের মতন দেখেছি, তারা যেন ভালো শিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হতে পারে তাদেরকে এই শিক্ষাই দিয়েছি।
আমি বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে কাজ করেছি। ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি সফল হয়েছি। কারণ আমার দেওয়া শিক্ষায় আজ ছাত্ররা তাদের জীবন সুন্দর করে গড়ে তুলতে পেরেছে, এটাই হচ্ছে একজন শিক্ষকের সফলতা। তিনি পূর্ব দরগা গেইট ১০৯ লায়লা ম্যানশন ওয়েভস এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।