৯:৩২ অপরাহ্ণ
শিক্ষা থেকে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা
কুলাউড়ায় বন্যার পানিতে ৪৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কুলাউড়া উপজেলার অংশে হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল জায়গাগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
এতে উপজেলার ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় মাস খানেক থেকে বন্যার কারনে বন্ধ রয়েছে। ছুটি শেষে গত ৩ জুন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুললেও বন্যার পানিতে নিমজ্জিত ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া কয়েকটি স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ওইসকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় স্কুলগুলোতে দৈনদিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে বন্যা কবলিত স্কুলগুলো ঘরে দেখা যায়, বন্যার পানিতে পৌর শহরের রাবেয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা আক্রান্ত এবং বশিরুল হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র থাকায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া পৌর শহরের ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ২২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে অন্যন্য সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভুগান্তিতে রয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা, তাদের কার্যালয়ের সামনে পানি প্রবেশ করায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী শশারকান্দি, চিলারকান্দি, আলমপুর, মনসুরগঞ্জ, আমতৈল, নওয়াগাঁও, কালেশার, বেগমানপুর, রহমানিয়া, শাহমীর, মুক্তাজিপুর, উত্তর শশারকান্দি, জাবদা, মদনগৌরী, কানেহাত, রাউৎগাঁও, গৌরিশংকর, রহমত মিয়া, রাবেয়া আদর্শ, মুহিবুর রহমান, শংকরপুর, গৌঁড়করণ, বাদে ভূকশিমইল, ছকাপন, কাইরচক, মীরশংকর, ভূকশিমইল, গুপ্তগ্রাম ও ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়েছে। ওইসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের নিচতলায় হাঁটুপানি উঠেছে।
এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে- ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ, মির্জাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাবেয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বশিরুল হোসেন, কাদিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভূকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, শ্রীপুর জালালিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়,নিজামিয়া বিশকুটি মাদরাসা,ছকাপন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, হোসেন বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছকাপন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউসুফ তৈয়বুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো পানিবন্ধি মানুষ বসবাস করছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখায়ের হোসেন ভূঁঞা বলেন, ঈদ ও অন্যন্য সরকারী ছুটি শেষে ৩ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও বন্যায় পানিবন্ধি ও আশ্রয় কেন্দ্র থাকায় ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বন্যার কারনে উপজেলার ১৩ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন বলেন, কুলাউড়ায় যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠেছে সেখানে বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।