বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ ::
২৮ এপ্রিল ২০ ২১
৮:৪০ অপরাহ্ণ

ফলো-আপঃ
ভাইকে হত্যা করে পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা: গ্রেফতার দুইভাইসহ -৪

পূর্বশত্রুতা ও আম পারাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার বিকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাম্পারায় চা বাগানের ২৫ নং সেকশনের ভেতর বাপ ছেলেসহ পাঁচ জন মিলে আপন ভাতিজা সুমন গোয়ালাকে দা ও কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় এদিন রাত নিহতের ছোটভাই সনজু গোয়ালা বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত কয়জনকে দিয়ে থানায় একটি মামলা করে। এদিকে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টার ভেতর মোবাইল নাম্বার ট্রেকিং এর মাধ্যমে বুধবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানার নেতৃত্বে এসআই মাহমুদুল হাসান, এএসআই আনিছুর রহমান, আফসার হামিদসহ একদল পুলিশ হবিগঞ্জ জেলার তেলিয়াপাড়ার বৈকুন্ঠপুর চা বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ভগ্নিপতি দিপক গোয়ালার বাড়িতে আতœগোপনে থাকা পলাতক তিন হত্যাকারীর মাঝে দুই সহোদর বিশ্বজিৎ ও সনজিত গোয়ালাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।

এবং তাদের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত অপর দুই সহোদর চাম্পারায় চা বাগানের বড়লাইন এলাকার চা-শ্রমিক মিলন অলমিক (২৬) ও সুজন অলমিক (২৪)। এই দুই সহোদর গতবছর নিহত সুমন এর ছোট ভাই সনজুর হাতের তিনটি আঙুল কেটে নিয়েছিলো।

তাদের সাথেও পূর্ব শত্রুতা রয়েছে বলে জানায়। পরে পুলিশ সকালে চাম্পারায় চা বাগান এলাকা থেকে সুজন অলমিক ও মনোহর গোয়ালার ছোট ছেলে বিশাল গোয়ালাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখ্য চা-বাগান সেকশনে আম পারাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় সুমন গোয়ালা (৩৬)। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন চাচা মনোহর গোয়ালা (৫০) ও চাচাতো দুই ভাই বিশ্বজিৎ গোয়ালা (২২) ও সনজিৎ গোয়ালা (৩২), ৩ জন চাম্পারায় চা বাগানের বড়লাইন এলাকার চা-শ্রমিক। নিহত সুমন গোয়ালা একই লাইনের মনোহর গোয়ালার ছোট ভাই বিমল গোয়ালা ওরফে সাধুর ছেলে। সুমন ২৫নং সেকশনে গরুর রাখালি করতো। সেকশনে একটি আম গাছ থেকে বার বার আম ভেঙ্গে নিতেন চাচা মনোহর গোয়ালা। কয়েক বার সে বাঁধা দিলে তার কথা কর্ণোপাত করেনি চাচা । এতে সুমন চা-বাগান ব্যবস্থাপক এর কাছে অভিযোগ করে। এই বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হন চাচা মনোহর গোয়ালা ও দুই ছেলে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন থেকেই উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেকশনে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মনোহর ও তার দুই ছেলে সুমনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে। এদিন রাতেই অভিযান পরিচালনা মনোহর গোয়ালার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মূল আসামীর দু'জন গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বুধবার সকালে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ