৪:৫১ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর বাড়ির ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানানোর অভিযোগ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরে এক প্রবাসীর বসত বাড়ির ভেতর দিয়ে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক লাইন টানানোর অভিযোগ ওঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরের রাজপুর গ্রামের কাতার প্রবাসী স্বপন আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার স্বপন আলীর স্ত্রী সিরাজুন নেছা মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা ২টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ বৈদ্যুতিক কর্তৃপক্ষ লাইন মেরামত বা স্থানান্তর করতে রাজপুর গ্রামে এসে পূর্বের নির্ধারিত স্থানে লাইন না টানিয়ে কাতার প্রবাসী স্বপন আলীর বাড়ির ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত স্বপন আলীর বোন জাহানার বেগম সিলেটে বসবাসকারী স্বপন আলীর স্ত্রী সিরাজুন নেছাকে বিষয়টি জানান।
সাথে সাথে সিরাজুন নেছা তাঁর ননদ জাহানার বেগমসহ আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে আপত্তি প্রদান করলে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন চলে যান। তবে কিছুক্ষণ পরে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনসহ আরও কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আত্মীয়-স্বজনদের হুমকি ধামকি দিয়ে জোরপূর্বক ও সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে বসত ঘরের বারান্দা এবং ২য় ও ৩য় তলা ঘেঁষে বৈদ্যুতিক লাইন টানিয়ে দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক লাইন আগে বসত ঘর থেকে ১৫ ফিট দূরত্বে ছিল। বর্তমানে সেটা বিপদজনকভাবে বসত বাড়ির ভেতর দিয়ে টানানো হয়েছে।
এতে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এদিকে জানা যায়, স্বপন আলীর বসত বাড়ির সীমানা প্রাচীরের উত্তর পাশ দিয়ে একটি সরু কাঁচা রাস্তা পশ্চিম দিকে গেছে, এই রাস্তার পাশে আব্দুল হকের ভূমির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অস্থায়ীভাবে যে বাঁশের খুঁটিতে বৈদ্যুতিক লাইন টানানো ছিল, সেই লাইন দক্ষিণ দিক দিয়ে স্বপন আলীর বাড়ির পশ্চিমে প্রতিবেশী মৃনাল কান্তি আচার্য্য রিপনের ভূমির উপর দিয়ে সোজাসুজি দক্ষিণের খুঁটিতে চলে গেছে। কিন্তু শনিবার আগের স্থানে খুঁটি না বসিয়ে, সেখান থেকে ১৫ ফিট পূর্ব দিকে নতুন পাকা খুঁটি বসিয়ে স্বপন আলীর বাড়ির ভেতর দিয়ে কোনাকোনিভাবে লাইন টানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাড়িতে অবস্থানরত স্বপন আলীর বোন জাহানার বেগম বলেন, শনিবার বেলা ২টার দিকে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য আমাদের বাড়ির সামনে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনসহ স্থানীয় দুই ইলেকট্রিশিয়ান এসে বাড়ির রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসাতে চাইলে আমি আমার ভাবিকে সাথে সাথে বিষয়টি অবগত করি। তিনি তখন আপত্তি দিতে বলেন। তখন আমিসহ বাড়ির লোকজন বাধা দিই। এতে তাঁরা চলে যান। তবে একটু পরে এক ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনসহ এসে আগের নির্ধারিত জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি না বসিয়ে সেখান থেকে ১৫ ফিট পূর্ব দিকে আব্দুল হকের ভূমির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে প্রতিবেশী মৃনাল কান্তি আচার্য্য রিপনের বাড়ির রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন বাড়ির ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানিয়ে দেন।
এ সময় আমাকে জানানো হয়, এই লাইন ১৫ দিন পর সরানো হবে। প্রবাসী স্বপন আলীর স্ত্রী সিরাজুন নেছা বলেন, আমি আমার ননদের মাধ্যমে জানতে পেরে সিলেট থেকে বাড়ি চলে আসি। এসে দেখি আমাদের বসত বাড়ির ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানানো হয়েছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবগত করি। পরে তাঁরা আমাকে সাধারণ একটি দরখাস্ত লিখে এনে দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলেন। অথচ আমাদের আপত্তি থাকার পরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক বাড়ির ভেতর দিয়ে বিপদজনকভাবে বৈদ্যুতিক লাইন টানিয়ে দেন। আমি বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রয়োজনে আমি আইনের আশ্রয় নেব।
প্রতিবেশী মৃনাল কান্তি আচার্য্য রিপন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রথমে স্বপন আলীর বাড়ির রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসাতে চাইলে সেখানে অসুবিধা হবে বলে তাদের বাড়ির লোকজনের সাথে আমিও আপত্তি তুলি। পরে সেখান থেকে আমাদের বাড়ির রাস্তা ঘেঁষে খুঁটি বসানো হয়। আর এই বাঁশের খুঁটি স্থায়ী কিছু ছিলনা। ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন বারবার হেলে পড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমি নিজ উদ্যোগে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের নিয়ে এসে অস্থায়ীভাবে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন হেলে পড়া থেকে রক্ষা করি।