১২:৫৫ অপরাহ্ণ
বুঙগার রাজা আ'লীগের দোসর ফতেপুরের রশিদ চেয়ারম্যান !
সিলেট সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে অবাধে আসছে ভারতীয় পন্য। নিখুঁত ছকে এই পণ্য ঢুকছে সিলেট হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই চোরাইপণ্যের ব্যবসা করে চোরাকারবারীদের মতো শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বিগত স্বৈরাচার আ'লীগের নেতাকর্মীদের মতো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
ভারতীয় চোরাইপন্যের মাধ্যমে অর্থ আয়ের মহোৎসব ঠেকানো হয়ে পড়েছে অনেকটা অসম্ভব। কারন বিষয়টি রীতিমতো ব্যবসা হিসেবে অঘোষিতভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ব্যবসায় লগ্নিসহ জড়িয়ে রয়েছেন জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক সহ প্রভাবশালী ব্যক্তি বিশেষ।
সেকারনে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। রাজনৈতিক সর্ম্পকের উর্ধ্বে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য। তাই এখানে দলীয় পদপদবী নিয়ে নেতাকর্মীরা থাকলেও দলের কর্মসূচী নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কারো।
স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের দু:শাসনের থাবায় দেশময় বিষিয়ে উঠলেও বুঙ্গা প্রধান সিলেটের অঞ্চলগুলো ছিল নিরূত্তাপ। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের উপর মামলা, হয়রানী সহ অবর্ননীয় দমন নিপীড়নের ষ্টিম রোলার চললেও ওই অঞ্চলের বিএনপির কথিত পদবীধারী নেতাদের কাছে এর ছিল না কোন মূল্য।
জুলাই আগষ্টের ছাত্র জনতার রক্তাক্ত আন্দোলনেও দেশময় যখন পুড়েছিল তখনও তারা শাসকগোষ্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মিলে মিশে ভারতীয় পন্যের চোরাচালানে ছিলেন ব্যস্ত। বিষয়টি স্বপ্ন নয়, চরম বাস্তবতা।
পতিত আ'লীগের ১৫ বছরে সিলেটের জৈন্তাপুর থানায় সরকার বিরোধী নাশকতা মামলা হয়েছে মাত্র ২টি। এই মামলায় তাদেরই আসামী করা হয়েছে যারা বিএনপির স্থানীয় কথিত পদবীধারীদের নিদের্শ না মেনে দলের কর্মসূচী পালনের চেষ্টা করেছে।
তারা অতি সাধারন ত্যাগি নেতাকর্মী, সেই সাথে আসামীর তালিকায় স্থান হয়েছিল চোরাচালান ব্যবসার বিরুদ্ধে উচ্চবাচ্য করা সচেতন ব্যক্তি বিশেষ। কিন্তু আসামীর তালিকায় নাম আসেনি বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ স্থানীয় কারো।
আ'লীগের পেটে বিএনপির নগ্ন অবস্থানের কারনেই ৫ অগাষ্টের পর জৈন্তাপুর থানায় কোন মামলা হয়নি পতিত আ'লীগের কোন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে বিএনপিনামধারী আ'লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে। অথচ দলকে আ'লীগের পেটে ঢুকিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা ও গোয়াইনঘাট উপজেলাসহ বৃহত্তর সিলেটের সমস্ত ভারতীয় অবৈধ পন্যের ডিলার তথা ডনে পরিণত হন জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ।
তিনি একাধারে সমাজ সেবক, সালিশ ব্যাক্তিত্ব ও দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপির জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি। কিন্তু এসবের আড়ালে তেল, গ্যাস আর পর্যটনের রানীখ্যাত হরিপুর এখন বুঙ্গার রাজধানী।
অনেকে একে সীমান্ত বন্দর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আদৌ কি বিলুপ্ত হচ্ছে এই জৈন্তিয়া রাজ্যের সেই ইতিহাস ঐতিহ্য! জৈন্তিয়ার শত বছরের ঐতিহ্য আজ ধ্বংসের দ্বারপান্তে। কেউ কি খুঁজে দেখছেন এসবের পেছনে কারন কি ? এসব বিষয়ে অনুসন্ধানে ফুটে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায় ভারতীয় ব্যবসার এ অঞ্চলের মুল এজেন্ট হরিপুর, আর হরিপুরের বুঙ্গা ব্যবসায়ীদের সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান। আওয়ামী শাষন আমলেও রাজা বাদশার মত নেতৃত্ব দিয়েছেন এ অঞ্চলকে। ফ্যাসিবাদ আমলে তিনি দাপটের সাথে রাজনীতি এবং চলাফেরা করেছেন।
নেই কোন মামলা হামলা। বহাল তবিয়্যতে ভারতীয় ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন রশিদ চেয়ারম্যান। তার সাথে রয়েছে ভারতীয়দের সখ্যতা। সেই ভারতীয়দের সিলেটের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এজেন্ট। এজেন্টদের কাছে লাখ লাখ টাকা তুলে দেন রশিদ চেয়ারম্যান। তার বিনিময়ে এজেন্টরা ফোনের মাধ্যেম সেখানকার ব্যবসায়ীদের নিশ্চিত করেন রূপীর ব্যবস্থা। এভাবে অবৈধপন্থায় অর্থ পাচার সংযুক্ত রয়েছেন রশিদ চেয়ারম্যান। এ অর্থে প্রতিদিন রাতে সিলেট সীমান্ত হয়ে ভারতীয় গরু, মহিষ, কসমেটিক্স, মাদক,মটর সাইকেল, মোবাইল যন্ত্রাশংসহ বিভিন্ন পন্য আসছে দেশের মাঠিতে।
শুধু তাই নয় ছেলে মাশুক আহমদ জেলা ডিবি পুলিশের লাইনম্যান। ডিবি পুলিশের নামে টাকা তোলেন রশিদ পুত্র মাশুক। অভিযোগ রয়েছে গোয়াইনঘাট জৈন্তাপুর এমনকি সিলেট শহর থেকে রেদোয়ান আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে অবরুদ্ধ করে টাকা আদায় করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায় দেন দরবার হলেই গাড়ি আটকিয়ে মানুষকে আটক করে অবরুকরে টাকা আদায় হরিপুরের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
বিগত দিনে কেন্দ্রি গ্রামে আক্রমন চালিয়ে হামলা ও মুজাম্মিল আলী নামের এক মাওলানার মৃত্যু এবং চিকনাগুল বাজারে অগ্নিসংযোগ, এবং ফতেহপুর বাজারে হামলার ঘটনা ঘঠিয়েছেন রশিদ চেয়ারম্যান এর আশির্বাদ পুষ্টরা। করেছেন বাড়ি গাড়ি আর অটেল জমি জমা সহ নগদ অর্থ সম্পদ।
জনতার দাবি রশিদ চেয়ারম্যান এর সম্পদ অনুসন্ধান ও দল থেকে বহিষ্কার করা না হলে বিপর্যস্ত হবে দল ও সমাজ। শুধু তাই নয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকার কারণে রশিদ চেয়ারম্যান ডৌবাড়ীতে টুল বসিয়ে টাকা আদায় করেন।
এ নিয়ে ডৌবাড়ী ও ফতেহপুর বাজারে পৃথক পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জৈন্তাপুর ও গোয়ইিনঘাটে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়া রশিদ চেয়ারম্যানের বুঙ্গারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের আমলনামা রয়েছে পুলিশ সহ প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে।
সেই সাথে বিএনপির জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছেও বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। তার এহেন তৎপরতার অবসান না হলে বিফলে যাবে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান, বিপথে যাবে ছাত্র সমাজের ত্যাগ রক্তক্ষরণ আর সংগ্রামের গৌরবাজ্জল অধ্যায়।
এব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে, তিনি তার উপর আরোপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি এসব যদি করি, তাহলে কেউ ব্যবস্থা নেয়না কেন ?