রবিবার, নভেম্বর ১, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
৫ ডিসেম্বর ২০ ২০
১০ :০ ৯ অপরাহ্ণ

 পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত হয়নি: বিএনপি এখনো কৌশলী প্রচারনায় 
 কমলগঞ্জে করোনা ও শীতের মধ্যেই নির্বাচনী উত্তাপ 

আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। ভোট গ্রহণ ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ইং। এই পৌরসভায় ভোট হবে ব্যালেটে। তফসিল ঘোষনার পর থেকে করোনার ঝুঁকি ও তীব্র শীতের মধ্যে ও দিবারাত্রী সমান তালে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুনাচ্ছেন নানা আশার বানী। কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা ও নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক পাওয়ার জন্য ৩ জন প্রার্থী দলীয় ভাবে চেষ্টা-তদবির করে যাচ্চেন। বিত্রনপি তাদের দল থেকে এক জন প্রার্থী চুড়ান্ত করেছেন। আওয়ামীলীগ এখন ও প্রার্থী চুড়ান্ত করতে পারেনি। আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন আদায় করতে ৩ জন প্রার্থী জোর তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল। তাই মূল নির্বাচনের পূর্বেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সাম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে প্রার্থী হতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থীরা প্রচারনায় নেমে পড়েছেন। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্তঞ্চলে পোষ্টার, টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করে নানা লেখা শুরু করেছেন। শুধু তাই নয় হাট-বাজারে বিভিন্ন দোকানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে যেমন এখন থেকেই গ্রামে, শিা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই পৃথক-পৃথক ভাবে গ্রামের পাড়ায়-পাড়ায় উঠান বৈঠক করছেন। অন্যদিকে তেমনি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থীরা ভোটের আগেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মত বিএনপির প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ অনেক কম ল্য করা যাচ্ছে। মামলা-হামলার ভয়ে গোপনে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। বিত্রনপি সুত্র বলেছে, কৌশলগত কারণেই প্রকাশ্যে প্রচারণা করছেন না। বিগত কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তখন পৌর চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৭ জন। প্রথম ভারের মতো তরুন প্রার্থী মোঃ জুয়েল আহমেদ (নৌকা প্রতিক ) নিয়ে ৩৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং কমলগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদটি দখলে নেয়। নিকটতম প্রতিদ্বন্দি সতন্ত্র প্রার্র্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব (তালগাছ) ভোট পেয়েছিলেন ২৮০৪ ও বিএনপি’র প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ(ধানের শীষ) ২১৩৩ ভোট পেয়েছিলেন অপরদিকে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী( জগ)৪২৬ ভোট,রফিকুর আলম ভোট পেয়েছিলেন ৮০ ,নজরুল ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৮০ এবং মাসুক আহমদ ভোট পেয়েছিলেন ২৩টি। এবার ২০২১ সালের নির্বাচনে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার হচ্ছেন ১৫২০৩ জন। তস্মধ্যে পুরুষ ৭৬০০ এবং মহিলা ৭৬০৩ জন। একাধিক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবার ও কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে এক প্রকার প্রকাশ্যই বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই নির্বাচনে যদি একক ভাবে প্রার্থীতা মনোনয়ন দেয়া না যায় তাহলে যে কেউ ভোটে বিজয়ের মালা পড়তে পারে। এবারের কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। আরো জানা যায়, পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে ৩ জন ও বিএনপির ১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বলে শুনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির তৎপরতা এখন ও চোখে পড়েনি। ইতিমধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনি মাঠে কাজ করছেন তারা হলেন ঃ বর্তমান পৌর মেয়র, সাবেক ছাত্র নেতা কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ট বিদ্যুৎসাহী ও সমাজকর্মী মোঃ জুয়েল আহমদ,কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর  আনোয়ার হোসেন ,কমলগঞ্জ উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের আহবায়ক ও ঠিকাদার মোঃ হেলাল মিয়া। অপরদিকে বিএনপি থেকে প্রার্থীতা হিসাবে মাঠে কাজ করছেন আবুল হোসেন। তারা ইতিমধ্যেই নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে ভাগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষনের কার্যক্রমে লেগে পড়েছেন। বর্তমান পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমদ বলেন,বিগত নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সিংহভাগই পূরন করতে সক্ষম হয়েছি। মানুষ চাহিদার কারনে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছি। আশাকরি ভোটাররা অবশ্যই বিগত দিনের আমার কাজের মূল্যায়ন করে পুণরায় নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে। অপর প্রার্থী কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানূষের কাছে আছি। তাই মানুষের সেবা করার জন্য প্রার্থী হতে যাচ্ছি। ঠিকাদার হেলাল মিয়া বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আরো ব্যাপক ভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। আশাকরি ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন। অপর প্রার্থী আবুল হোসেন বলেন, এই পৌরসভায় বিএনপির প্রচুর সমর্থক ও ভোটার রয়েছেন। তারা আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাই আশাকরি সুষ্টু নির্বচন হলে আমিই জয়ি হবো।
 

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ