বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ::
২৪ জুন ২০ ২১
৮:৪৭ অপরাহ্ণ

কমলগঞ্জে সাত দফা দাবী নিয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়ন'র সংবাদ সম্মেলন

চা-বাগান শিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত সংগঠনের মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশ বাতিল চেয়ে সাত দফার দাবী জানান চা শ্রমিক নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা লিখিত বক্তব্যে বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি তিন বছর পর পর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। অথচ, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর পর উভয় পক্ষের চুক্তি হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা-সংসদের (বিটিএ) সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল। গত ২০১৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই চুক্তির মেয়াদ ছিল।

ওই চুক্তিতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। এখনো নতুন করে কোনো চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি অনুযায়ী, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এতে চা-শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মালিকপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। শ্রমিকেরা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মজুরি ৩'শত টাকা নির্ধারণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।

মজুরি বোর্ডের সুপারিশের কারণে তাঁরা চরম হতাশায় পড়েছেন। বক্তব্যে আরো বলা হয়, চা শ্রমিকরা জন্ম থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। অথচ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যে নিম্নতম মজুরি হারের খড়সা প্রকাশ করা হয়েছে তা দূঃখজনক। মজুরি বোর্ডের সুপারিশে প্রথম তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে শ্রমিকদের নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে একজন শ্রমিক ১১০ টাকা করে দৈনিক মজুরি পাবেন।

চা-শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় একই পেশায় নিযুক্ত হন। এ অবস্থায় তাঁদের শিক্ষানবিশ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক। চা-বাগানের সব শ্রমিক সমান কাজে সমান মজুরি পাবেন। কিন্তু, মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের এ, বি ও সি গ্রেডে বিভক্ত করে তাঁদের জন্য ভিন্ন মজুরি প্রদানের সুপারিশ করেছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য দেখা দিবে। এটা অমানবিকও।

এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানানোসহ সাত দফা দাবীর কথা তুলে দরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, কোষাধ্যক্ষ রাজিব কৈরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর বুনার্জী, চা-শ্রমিক নেতা সিতারাম বীন, চা-ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রদীপ পাল, মির্তৃঙ্গা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিন্টু অলমিক প্রমুখ। কমলগঞ্জে ২৩ টি চা-বাগান নিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর মনু-দলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ গঠিত।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ