১১:১৪ অপরাহ্ণ
ভ্যালি সম্পাদকের বাসা ঘেরাও, পঞ্চায়েত সভাপতির দোকানে হামলা
জেলা প্রশাসনে সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষান করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
রোববার (২১ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ও শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপ পরিচালক নাহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের বৈঠক বসেছিল। টানা প্রায় ৪ ঘন্টার সমঝোতা বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহহীত হয়েছিল চা শ্রমিকদের দৈনকি মজুরী পূর্বে ১২০ টাকা রেখে মঙ্গলবার সকাল থেকে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিবে।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কনফারেন্সে সভা করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা তারা মেনে নিবেন। এমনি সিদ্ধান্তের যৌথ স্বারকে স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নৃপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালেঞ্জী, বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা, মনু-দলই ভ্যালি সম্পাদক নির্মল দাম পাইনকাসহ ৮জন ইউনিয়ন নেতা।
অপর দিকে স্বাক্ষর করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ও শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপ পরিচালক নাহিদুল ইসলাম। এ সিদ্ধান্ত মতে সোমবার সকাল থেকে কমলগঞ্জের ২ টি চা বাগান যথাক্রমে মিরতিংগা ও দেওড়া ছড়ায় চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। তবে শমশেরনগর চা বাগানে চা ছাত্র যুব পরিষদের নেতা মোহন রবিদাস, আলীনগর চা বাগানে ইউপি সদস্য গৌরি রানী কৈরীসহ বাকি ২০ টি চা বাগানের চা ছাত্র যুব পরিষদের নেতবৃন্দরা জেলা প্রমাসকের কার্যালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষান করে সোমবার সকাল ৯টা থেকে প্রতিটি চা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল করে।
ফলে সাধারণ চা শ্রমিকরা আর কাজে যোগ দেয়নি। দুপুরে আলীনগর চা বাগান থেেেক্একিটি বিক্ষোভ মিছিল এসে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তারা কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনীতে সড়ক অবরোধ করে ২ ঘন্টা বিক্ষোভ করে। অন্যদিকে সকালে মাধবপুর চা বাগানের ফাঁড়ি বাগান পদ্মছড়ায় বিক্ষোভকারীরা এ বাগানের পঞ্চাযেত সভাপতি কৃষ্ণ লাল দেশওয়ারার দোকানে হামলা করে ভাঙ্গচুর করা ছাড়া বেশ কিছু সময় তার বাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে।
১টার পর মনু-দলাই ভ্যালির অধীণ কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চা বাগানের ফাঁড়ি তিলকপুরের জনক লালের নেতৃত্বে তিলকপুর চৌয়াল্লিশ পাট্রা, শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি ও দেওছড়ার প্রায় ৩ শতাধিক বিক্ষোব্দ চা শ্রমিক লাটি সুটা নিয়ে মনু-দলাই ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাইনকার শশেরনগর চা বাগানের বাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকালে তারা বলে র্নিল দাশ পাইনকা কেন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন। তার কাছে বোঝাপড়া করতেই তারা এখানে এসেছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে। তারা শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদে, ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া ও চা বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিক্ষোব্দ চা শ্রমিকেদের সাথে আলোচনা করে তাদেরকে এ চা বাগান থেকে বিতাড়িত করেন।